অস্ট্রেলিয়া সফরে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের দাবি, যা জানাল সরকার
সিডনির বন্ডি বিচে একটি ইহুদি উৎসব চলাকালীন ভয়াবহ বন্দুক হামলার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগামী সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। এই সফরকে কেন্দ্র করে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন ও ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা। তবে সেই দাবি কার্যত এড়িয়ে গেছে দেশটির সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানান, ইহুদি সম্প্রদায়ের ইচ্ছার কথা মাথায় রেখেই আইজ্যাক হারজোগকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর সিডনির বন্ডি বিচে একটি হানুক্কাহ উৎসবে উগ্রবাদী হামলায় ১৫ জন নিহত হন। সেই শোকাবহ ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানান। হারজোগ আগামী সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে চার দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করবেন।
জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন ২০২৫ সালে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল, হারজোগ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যায় উসকানি’ দিয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর তিনি মন্তব্য করেছিলেন, গাজার সাধারণ মানুষও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এই মন্তব্যের জেরে মানবাধিকার আইনজীবী ক্রিস সিডোটিসহ বেশ কিছু ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও ফেডারেল পুলিশের কাছে হারজোগকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানিয়েছেন।
তবে গ্রেপ্তারের দাবি প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানান, ‘বন্ডি বিচের সেই ভয়াবহ ইহুদি-বিদ্বেষী হামলার শিকারদের সম্মান জানাতে ও শোকাতুর মানুষের পাশে দাঁড়াতেই প্রেসিডেন্ট হারজোগ আসছেন।’ তবে তিনি গ্রেপ্তারের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
এদিকে সফরকে কেন্দ্র করে সিডনি ও ক্যানবেরায় ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সিডনি পুলিশ জানিয়েছে, হারজোগের বিরুদ্ধে অনলাইনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বন্ডি হামলার পর পুলিশের ক্ষমতা বৃদ্ধি করায় সিডনিতে প্রতিবাদ সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক