ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার খসড়া চূড়ান্ত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো একটি বিশেষ ‘কূটনৈতিক কাঠামো’ প্রস্তাব করেছে। আগামীকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে এই কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনায় মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। খবর আল জাজিরার।
কী আছে মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবে?
সূত্রমতে, কাতার, তুরস্ক ও মিশরের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবে কয়েকটি কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে :
ইরানকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। এরপর পরবর্তী ধাপে তা ১ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
বর্তমানে ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুদ তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে নিতে হবে।
ইরান তার আঞ্চলিক মিত্রদের অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধ করবে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেবে।
দুই দেশের মধ্যে একটি ‘অ-আগ্রাসন চুক্তি’ সই করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে যখন আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও ধ্বংসকারী জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই সামরিক সমাবেশ তেহরানের ওপর বড় ধরনের চাপের সৃষ্টি করেছে। এছাড়া মঙ্গলবারই মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর কাছে আসা একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই দিনে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজে ইরানি বাহিনীর হয়রানির অভিযোগও উঠেছে।
তেহরান এখন পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় ছাড়া অন্য কোনো ইস্যু (ক্ষেপণাস্ত্র বা আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন) নিয়ে আলোচনায় অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। তবে অভ্যন্তরীণভাবে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক মন্দার চাপে থাকায় ইরান এই কূটনৈতিক সুযোগটি গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকরা সতর্ক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসেও ওমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, কিন্তু ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হলে সেই প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। এবারের আলোচনায় ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা সীমিত করা, যা গত যুদ্ধে ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছিল।
মধ্যস্থতাকারীদের এই প্রস্তাবের ওপর ওয়াশিংটন বা তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা এই আলোচনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক