ঋতু পরিবর্তনে ফরিদপুরে হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগী
শীত শেষে বসন্তের আগমনের মধ্যে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে ফরিদপুরে শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে সর্দিকাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। চিকিৎসকদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।
মৌসুম বদলের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ফরিদপুরের একমাত্র বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক রোগীর উপস্থিতি। প্রিয় সন্তানকে নিয়ে অভিভাবকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে সিরিয়ালের জন্য।
হাসপাতালটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আক্কাস মন্ডল জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রতিদিন শুধু আউটডোরে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী আসছে। ইনডোরেও প্রতিদিন সিট সংকট দেখা দিচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, তাপমাত্রার ওঠানামা, ধুলাবালি ও ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তারা সহজেই সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নিরঞ্জন কুমার দাস বলেন, এ সময় শিশুদের ঠান্ডা লাগা, কাশি ও জ্বর বেশি হচ্ছে। অনেকেই শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসছে। তাই শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই পোশাক পরানো, নিরাপদ ও পরিষ্কার পানি পান করানো এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি। অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শও দেন তারা।
হাসপাতালে আসা একাধিক অভিভাবক বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের পর থেকেই আমার বাচ্চার জ্বর আর কাশি হচ্ছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কিন্তু রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসকের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, সচেতনতা বাড়াতে পারলে মৌসুমি রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ের সব সরকারি হাসপাতালে এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক ও ওষুধের কোনো ঘাটতি নেই বলেও তিনি জানান।

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)