হামের লক্ষণ ও প্রতিকার
হাম সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ।হামের লক্ষণগুলো রোগীর শরীরে প্রকাশ হওয়ার আলাদা-আলাদা সময়কাল আছে। হামের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে ধারণা থাকলে তা প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় এবং এর বিস্তার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
প্রথম দিন: শরীরে ভাইরাসের প্রবেশ
ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পর সুপ্তিকাল শুরু হয়। এই পর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ থাকে না, কিন্তু ভাইরাসটি শ্বাসতন্ত্রে বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করে।
৭ থেকে ১৪ দিন: প্রাথমিক লক্ষণের প্রকাশ
প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণত সর্দির মতোই হয় যেমন, তুলনামূলকভাবে উচ্চ জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকা, হাঁচি এবং কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং ফোলাভাব। এই পর্যায়টি প্রায়শই অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করে, কারণ এই লক্ষণগুলো সাধারণ শ্বাসতন্ত্রের রোগের লক্ষণ থেকে খুব বেশি আলাদা নয়।
৯-১০ দিন: কোপলিক স্পট
হামের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো মুখের ভেতরে কোপলিক স্পট নামক ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা দেওয়া। এই দাগগুলো সাধারণত গালে বা ঠোঁটের পেছনে দেখা যায় এবং কয়েকদিন পর অদৃশ্য হয়ে যায়।
১০-১২ দিন: র্যাশ এবং উচ্চ জ্বর
হামের র্যাশ সাধারণত মুখ থেকে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে ঘাড়, হাত, পা এবং পায়ের পাতাসহ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। দাগগুলো প্রথমে সমতল এবং লাল থাকে, এবং তারপর সেগুলোর উপর ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, এই দাগগুলো একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করে।
এই পর্যায়ে, জ্বর ৪০ ডিগ্রি বা তার বেশি হতে পারে, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। গর্ভাবস্থায় হাম হলে গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব বা অপরিণত শিশুর জন্ম হতে পারে এবং শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে। এর সর্বোত্তম প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো এমএমআর (MMR) টিকা। এছাড়া এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং জ্বর কমানোর ওষুধ কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারে।
লেখক: এমবিবিএস, ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইরান।

ডা. কামরুজ্জামান নাবিল