ক্রিকেটকে অ্যালিসা হিলির গুডবাই
দুইবার উঁচিয়ে ধরেছেন ওয়ানডে বিশ্বকাপের ট্রফি, টি-টোয়েন্টিতে আরও বেশি—ছয়বার পেয়েছেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ। অনেক অনেক রেকর্ড নামের পাশে। সব সংস্করণ মিলিয়ে করেছেন ৭ হাজারের বেশি রান। উইকেটরক্ষক হিসেবে আছে ২৭৫টি ডিসমিসাল। এক ক্যারিয়ারে এর চেয়ে বেশি আর কি চাওয়া থাকতে পারে? বোধহয় থাকে না। থাকে না বলেই ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় বলে দিলেন তিনি।
ট্রিপল এম ক্রিকেটের ‘উইলো টক’ পডকাস্টের প্যানেলে পরিচিত মুখ অ্যালিসা হিলি। কিন্তু তার এবারের এপিসোডটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। কারণ এখানেই যে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগী সিদ্ধান্তটা জানালেন ৩৫ বছর বয়সী এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
পডকাস্টের শুরুতেই তাকে বলা হলো, ‘অ্যালিসা, তুমি কিছু জানাতে চাও আমাদের…।’ হিলি বললেন, ‘এভাবে শুরু করব ভাবিনি, ভেবেছিলাম শেষে বলব…।’ অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ঠোঁটে খানিকটা হাসি ঝুলিয়ে বললেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে আমি ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি ভারতের বিপক্ষে সিরিজ শেষে।’
অ্যালিসা হিলির আরও একটা পরিচয় আছে। তিনি অস্ট্রেলিয়া পুরুষ দলের তারকা মিচেল স্টার্কের জীবনসঙ্গীনী। অবসর ঘোষণার কারণ জানাতেও মজার ছলে আসল স্টার্কের কাহিনী। মজা করে হিলি বললেন, স্টার্কের কাছে গলফ খেলায় হেরে গেছেন তিনি। সেটাতে উন্নতি করতেই ক্রিকেটকে বিদায় দিতে চান।
পরে অবশ্য হিলি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার প্রতি আমার আবেগ এখনও আগের মতোই আছে, কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরু থেকে যে প্রতিযোগিতামূলক জেদ আমাকে তাগিদ দিতো, তা আমি কিছুটা হারিয়ে ফেলেছি। তাই সরে দাঁড়ানোর জন্য এটাই সঠিক সময় বলে মনে হচ্ছে।’
আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ৩টি টি-টোয়েন্টি, ৩টি ওয়ানডে ও একটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে এই সিরিজে। এই সিরিজ দিয়েই খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানবেন হিলি। যদিও সবার ধারণা ছিল চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে হিলির বিদায়ের মঞ্চ।
২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেক হিলির। ওই সিরিজেই গায়ে জড়ান টি-টোয়েন্টির জার্সিও। পরের বছর জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণ টেস্টের জার্সিও গায়ে জড়ান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১০ টেস্টে রান ৪৮৯। এক রানের জন্য পুড়েছেন সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে। ১২৩ ওয়ানডেতে ব্যাটহাতে করেছেন ৩ হাজার ৫৬৩ রান। সেঞ্চুরি আছে ৭টি। আর ১৬২ টি-টোয়েন্টিতে করেছেন ৩ হাজার ৫৪ রান। আছে একটি সেঞ্চুরিও।
অর্জনের মুকুটে যোগ করেছেন ছয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। উইকেটের সামনে ও পেছনে গড়েছেন অনেক রেকর্ড। আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার হয়েছেন দুই দফায়, অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটারও হয়েছেন।
হিলির এই রান কিংবা অর্জন—শুধুই নিজের কথা বলে না। বরং আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে নারী ক্রিকেটকেই তিনি নিয়ে গেছেন অন্যন্য উচ্চতায়। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নারী ক্রিকেটের কিংবদন্তি হিসেবে।

স্পোর্টস ডেস্ক