যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল ইরান
আগামী জুন-জুলাইয়ে মাঠে গড়াবে ‘দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন দ্যা আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলকে নিয়ে যৌথভাবে তিন দেশে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। যেখানে সহ-আয়োজক হিসেবে আছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে সামরিক হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এমন দেশে ইরান বিশ্বকাপ খেলতে যাবে কি না সেটি নিয়ে তৈরি হয়েছিল আলোচনা।
অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাল ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান দলকে সাদরে আমন্ত্রণের কথা জানালেও তাতে সাড়া দেয়নি তেহরান। বর্তমান রাজনৈতিক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এবারের বিশ্বকাপ বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইরান।
ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামালি আজ বুধবার (১১ মার্চ) পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের দেশ ফুটবল বিশ্বকাপের এই আসরে অংশ নিচ্ছে না।
একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ডোনিয়ামালি বলেন, ‘আমাদের ওপর একের পর এক যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং আমাদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফুটবল খেলার মতো মানসিক অবস্থা বা পরিবেশ আমাদের নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই ইরানি ফুটবলারদের পক্ষে মার্কিনিদের মাটিতে খেলতে নামা সম্ভব নয়। তাই সরকার এই আসর থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ইরান দলকে বিশ্বকাপে সব ধরনের নিরাপত্তা ও স্বাগতম জানানো হবে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে ক্রীড়া কূটনীতি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখল না।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার কথা ছিল তাদের। এছাড়া সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ইরানিদের। এখন ইরান সরে দাঁড়ালে টুর্নামেন্টের গ্রুপ বিন্যাস এবং সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে ফিফাকে।

স্পোর্টস ডেস্ক