বাংলাদেশের কাছে লজ্জার হারে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিলেন সাবেক ক্রিকেটার
একমাত্র দল হিসেবে টেস্টে পাকিস্তানকে ঘরের মাঠ ও প্রতিপক্ষের মাঠে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। সেটিও আবার দুই দলের ব্যাক-টু-ব্যাক সিরিজে। টাইগারদের কাছে এমন ‘ধবলধোলাই’ হওয়ার পর এবার সাবেক ক্রিকেটারদের তোপের মুখে পড়েছে পাকিস্তান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে বাবর আজম-রিজওয়ানদের এমন করুণ পারফরম্যান্সের কঠিন সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার কামরান আকমল। একই সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ও দেশের ক্রিকেট কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
সিলেট টেস্টে বুধবার পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়েও একই ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা।
অথচ এই দুই সিরিজের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা ১৩ টেস্টের একটিতেও জয়ের রেকর্ড ছিল না বাংলাদেশের। এখন সবশেষ চার টেস্টের চারটিতেই জিতল বাংলাদেশ। আর নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে বিদেশের মাটিতে টানা সাতটি টেস্ট হারল পাকিস্তান।
সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের এই লজ্জাজনক পরাজয়ের পর একটি ইউটিউব চ্যানেলে কথা বলেন কামরান আকমল। ক্ষোভ উগরে দেওয়ার আগে অবশ্য বাংলাদেশ দলকে বাহবা দিতে ভোলেননি তিনি।
আকমাল বলেন, ‘বাংলাদেশ দল ও পুরো জাতিকে অনেক অভিনন্দন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা ঝামেলার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরও তারা দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে। নিজেদের বেসিক থেকে তারা মোটেও সরে আসেনি। এটা অনেক বড় অর্জন।’
তবে নিজের দেশের দল নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে কামরান বলেন, ‘আমাদের জন্য তীব্র হতাশা ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। আমরা গত ৬-৭ বছর ধরে একই কথা বলে আসছি, কিন্তু ক্রিকেটের কোনো উন্নতি হচ্ছে না, কিছুই বদলায়নি।’
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাদের একহাত নিয়ে কামরান আকমল বলেন, ‘কর্মকর্তাদের অহংকারই দলকে ধ্বংস করছে।’ তাঁর মতে, নিয়মনীতির বাইরে গিয়ে হুটহাট খেলোয়াড় নির্বাচন করায় মেধা ও দক্ষতার কোনো মূল্য থাকছে না। জবাবদিহিতা না থাকায় পারফরম্যান্সের মানও নিচে নেমে যাচ্ছে।
ক্রিকেটারদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কামরান আকমল আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কাছে জাতীয় দলের চেয়ে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পিএসএল খেলার সময় কোনো খেলোয়াড় কোনো দিন আনফিট থাকে না। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হলেই ইনজুরি আর আনফিট হওয়ার চিঠি আসতে শুরু করে। এই মানসিকতা থাকলে ক্রিকেটের উন্নতি কীভাবে হবে?’
ভুল ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তের কারণে ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফর্মারদের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আকমল। তিনি বলেন, ‘যে ব্যাটার এক ম্যাচে ১০০ বা ২০০ রান করতে পারে, যে বোলার দিনে ১৮ ওভার বল করতে পারে, তাকে বাদ দেওয়া হচ্ছে শুধু একটা লাফ দিতে না পারার কারণে! দুই কিলোমিটার দৌড়াতে গিয়ে ৩০ সেকেন্ড বেশি সময় নিলেই বলা হচ্ছে সে আনফিট। যারা এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তারা আগে নিজেদের দিকে তাকান।’
এ প্রসঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের উদাহরণ টেনে কামরান আকমল বলেন, “ভারতেও দল সবার আগে। পারফর্ম করতে না পারায় চেতেশ্বর পূজারা, অজিঙ্কা রাহানে বা শিখর ধাওয়ানের মতো বড় তারকাদের দল থেকে বাদ দিতে ভারত দ্বিধা করেনি। আর আমাদের এখানে পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের ভেতর ‘বন্ধুত্ব’ বজায় রাখাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।”
পাকিস্তানের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ আশঙ্কায় আছেন এই সাবেক ক্রিকেটার। আকমল মনে করেন, খুব দ্রুত পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না। তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো আগামী ৪-৫ বছরেও পাকিস্তানের ক্রিকেটের কোনো উন্নতি আমি দেখছি না। যদি সত্যিই পরিস্থিতির বদল চান, তবে এখনই কিছু বড় ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নয়তো এই পতন ঠেকানো যাবে না।’

স্পোর্টস ডেস্ক