রোনালদোর গোধূলি বেলা, না কি ইয়ামালের সূর্যোদয়?
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যখন প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন, লামিনে ইয়ামাল তখনো ধরাধামে ভূমিষ্ঠ হননি। দুই দশকেরও বেশি সময় পর সেই অনাগত শিশুই আজ ১৮ বছরের এক বিস্ময়। আর ৪১ বছর বয়সেও রোনালদো একই ক্ষুধা, একই আবেগ আর একই জয়ের তাড়না নিয়ে মাঠ মাতিয়ে চলেছেন।
তাই এই লড়াইকে শুধু একজন কিংবদন্তির বিদায় কিংবা এক তরুণের উত্থান বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। বরং এটি ফুটবলের এক যুগ থেকে আরেক যুগে উত্তরণের গল্প বটে। যেখানে ইতিহাসের এক মহাতারকা আর ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মহাতারকা একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে লিখছেন নতুন এক অধ্যায়।
ডালাসে আজ সোমবার (৬ জুলাই) স্পেন ও পর্তুগালের শেষ ষোলোর লড়াই তাই শুধু দুই দলের নয়, দুই প্রজন্মেরও। একদিকে ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। অন্যদিকে, মাত্র ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল। বয়সের ব্যবধান ২৩ বছর হলেও দুজনই নিজ নিজ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলার।
রোনালদোর নামের পাশেই লেখা আছে ইতিহাস। ২০০৬ থেকে ২০২৬-- টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র ফুটবলার তিনি। চলতি আসরে তার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১-তে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৯৩০টির বেশি গোল করেছেন। জিতেছেন পাঁচটি ব্যালন ডি’অর এবং অসংখ্য শিরোপা। চলতি বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করা সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলারের রেকর্ডও গড়েছেন।
অন্যদিকে, ইয়ামালের উত্থান যেন রূপকথার গল্প। চলতি বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেছেন তিনি। তবে গোলের চেয়েও বেশি আলো কেড়েছে তার দুর্দান্ত গতি, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতা দিয়ে। মাত্র ১৮ বছর ৩৫৪ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে ১০টি ম্যাচ জিতে তিনি ভেঙেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পের রেকর্ড। শুরু থেকেই তার তুলনা করা হচ্ছে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে। তবে ইয়ামাল নিজেই বলেছেন, তিনি কারও মতো হতে চান না। নিজের পথেই ইতিহাস গড়তে চান।
তাই এই ম্যাচকে শুধু রোনালদোর শেষ কিংবা ইয়ামালের শুরু বলে দেখার সুযোগ নেই। একদিকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় লেখার সুযোগ। অন্যদিকে, ভবিষ্যতের এক তারকার নিজেকে আরও বড় মঞ্চে প্রমাণ করার লড়াই। ডালাসের এই ম্যাচ তাই শুধু স্পেন-পর্তুগালের লড়াই নয়। ফুটবলের দুই প্রজন্মের এক স্মরণীয় মুখোমুখি।

স্পোর্টস ডেস্ক