রাইডশেয়ারিং খাতে অস্থিরতা: অননুমোদিত গোষ্ঠীর হামলায় আতঙ্ক, উদ্বেগ বাড়ছে
রাজধানীতে অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারিং পরিবহন সেবাকে কেন্দ্র করে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অননুমোদিত কয়েকটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের অফিসে হামলা, ভাঙচুর, হুমকি এবং জোরপূর্বক তালা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, যাত্রী হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগে ডিলিস্টেড (নিষিদ্ধ) চালকরাই এসব নৈরাজ্যের মূল হোতা।
সর্বশেষ গত ৩ ডিসেম্বর মিরপুরে পাঠাও লিমিটেডের একটি অফিসে ঢুকে হুমকি-ধমকি দিয়ে তালা লাগানোর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৭ ডিসেম্বর পল্লবী থানায় মামলা করা হয়। মামলায় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭ ও ৫০৬ ধারায় মামলা (মামলা নং-৯) দায়ের করা হয়েছে। এতে মো. আসাদুজ্জামান (আসাদ আজিজ), কাওসার আহমেদ (কাওসার মুসল্লী), মো. আব্দুস সাত্তার লিটনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা অবৈধভাবে অফিসে প্রবেশ করে কর্মীদের গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেয়। পরে কর্মীদের অফিস থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। এতে কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও মামলার নথি বলছে, এই বিশৃঙ্খলার সঙ্গে কয়েকটি অনিবন্ধিত সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে- বাঁচাও রাইড পরিষেবা ঐক্য পরিষদ ইউনিয়ন, অ্যাপ বেইজড ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়ন (এটিইউ), রাইড শেয়ারিং ড্রাইভারস ইউনিয়ন (আরএসডিইউ) এবং বাংলাদেশ রাইড সার্ভিস ইউনিয়ন (বিআরডিইউ)। অভিযোগ রয়েছে, এসব সংগঠনের কোনো বৈধ নিবন্ধন নেই এবং মূলত ফেসবুক গ্রুপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারিং কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এসব গ্রুপের অনেক সদস্যই বিভিন্ন সময়ে ভাড়া প্রতারণা, যাত্রী নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও অ্যাপের নীতিমালা ভঙ্গের কারণে ডিলিস্টেড হয়েছেন। এখন তারা সংঘবদ্ধ হয়ে অবৈধ দাবি আদায়ে অফিস ঘেরাও ও হামলার পথ বেছে নিচ্ছেন।
রাইডশেয়ারিং খাতে এ ধরনের সহিংসতা নতুন নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর উবার ও পাঠাওয়ের একাধিক অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে রাইডশেয়ারিং কোম্পানির প্রতিনিধিদের জিম্মি করে রাখার ঘটনাও ঘটে, যা পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ এসব অননুমোদিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই সংগঠিত চক্রগুলো বারবার নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।
টানা দুই বছর ধরে চলা এই সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতায় রাইডশেয়ারিং খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং যাত্রী ও রাইডারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা গেলে এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক