কম্পিউটার স্লো? র্যাম না বাড়িয়ে উইন্ডোজের এই ৩ কৌশল ব্যবহার করুন
কম্পিউটার ধীরগতির হয়ে পড়লেই অনেকে মনে করেন, র্যাম বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু সব সময় র্যামের স্বল্পতার কারণে কম্পিউটার ধীর হয় না। হার্ডডিস্কের গতি, চালু থাকা অ্যাপ এবং প্রসেসরের অতিরিক্ত তাপও এর কারণ হতে পারে। তাই নতুন র্যাম কেনার আগে উইন্ডোজের বিল্ট-ইন টাস্ক ম্যানেজার ব্যবহার করে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করে নিতে পারেন।
১. র্যামের ব্যবহার পরীক্ষা করুন
নতুন র্যাম কেনার আগে কম্পিউটারে বর্তমানে কতটুকু র্যাম ব্যবহার হচ্ছে, তা দেখে নিন। এ জন্য কিবোর্ডের Ctrl + Shift + Esc বোতাম একসঙ্গে চেপে টাস্ক ম্যানেজার চালু করুন। এরপর ‘পারফরম্যান্স’ ট্যাবে গিয়ে ‘মেমোরি’ অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে র্যামের মোট পরিমাণ এবং ব্যবহারের হার দেখা যাবে।
কম্পিউটারে নিয়মিত কাজ করার সময়ও যদি র্যামের ব্যবহার ৯০ শতাংশের নিচে থাকে, তাহলে র্যামের স্বল্পতাই ধীরগতির প্রধান কারণ-এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ কম। তবে কোন কাজ করছেন, তার ওপর র্যামের প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে।
২. হার্ডডিস্কের পরিবর্তে এসএসডি ব্যবহার করুন
টাস্ক ম্যানেজারের ‘পারফরম্যান্স’ ট্যাবে গিয়ে ‘ডিস্ক’ অপশনে নজর দিন। ডিস্কের ব্যবহার দীর্ঘ সময় ধরে ১০০ শতাংশে থাকলে কম্পিউটারের ধীরগতির পেছনে স্টোরেজ ড্রাইভের ভূমিকা থাকতে পারে।
পুরোনো মেকানিক্যাল হার্ডডিস্ক বা এইচডিডি ব্যবহার করলে সেটির পরিবর্তে এসএসডি লাগানোর কথা ভাবতে পারেন। সাধারণত এসএসডি ব্যবহারে কম্পিউটার চালু হওয়া, সফটওয়্যার খোলা এবং ফাইল স্থানান্তরের গতি বাড়ে।
এসএসডি ব্যবহারের পরও ডিস্কের ব্যবহার ১০০ শতাংশ দেখালে টাস্ক ম্যানেজারের ‘প্রসেসেস’ ট্যাবে গিয়ে ‘ডিস্ক’ কলামে ক্লিক করুন। এতে কোনো সফটওয়্যার বা প্রক্রিয়া বেশি ডিস্ক ব্যবহার করছে, তা বোঝা যাবে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ শনাক্ত করে সেটি বন্ধ বা আনইনস্টল করতে পারেন। তবে অচেনা উইন্ডোজ সিস্টেম প্রক্রিয়া বন্ধ করার আগে সতর্ক থাকুন।
৩. অপ্রয়োজনীয় স্টার্টআপ অ্যাপ বন্ধ করুন
কম্পিউটার চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়। এসব অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকায় কম্পিউটার চালু হতে বেশি সময় লাগতে পারে এবং সিস্টেমের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
এ সমস্যা কমাতে টাস্ক ম্যানেজারের ‘স্টার্টআপ অ্যাপস’ ট্যাবে যান। সেখানে যেসব অ্যাপের পাশে ‘হাই ইমপ্যাক্ট’ লেখা আছে, সেগুলো পর্যালোচনা করুন। যেসব অ্যাপ কম্পিউটার চালুর সময় প্রয়োজন হয় না, সেগুলোর ওপর রাইট ক্লিক করে ‘ডিসেবল’ নির্বাচন করতে পারেন। এতে কম্পিউটার চালুর সময় কমতে পারে।
অতিরিক্ত গরম হচ্ছে কি না দেখুন
ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কিছুক্ষণ ব্যবহারের পর গরম হয়ে ধীরগতির হয়ে গেলে প্রসেসরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত গরম হলে প্রসেসর নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে কুলিং ফ্যান ও বাতাস চলাচলের পথ পরিষ্কার রাখা জরুরি। প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ কারিগরের মাধ্যমে সার্ভিসিং করাতে পারেন।
কম্পিউটার ধীরগতির হলেই র্যাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগে টাস্ক ম্যানেজারে র্যাম ও ডিস্কের ব্যবহার পরীক্ষা করুন। এতে সমস্যার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা সহজ হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক