আইসোলেশন, কোয়ারেন্টিন ও হোম কোয়ারেন্টিন : কখন কোনটা প্রয়োজন?
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সঙ্গে বর্তমানে সবচেয়ে পরিচিত তিনটি শব্দ হল আইসোলেশন, হোম কোয়ারেন্টিন ও কোয়ারেন্টিন। কিন্তু এ তিনটির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? রোগীর ক্ষেত্রে এই তিন অবস্থায় বিধিনিষেধের কি পার্থক্য আছে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা? বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামীর মতে, আইসোলেশন, হোম কোয়ারেন্টিন ও কোয়ারেন্টিনের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্য আছে নিয়ম মানার ক্ষেত্রেও।
আইসোলেশন : কারো শরীরে করোনার লক্ষণ প্রকাশ পেলে এবং টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ হলে, তাঁকে আইসোলেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। আইসোলেশনের সময় রোগীকে চিকিৎসক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে থাকতে হবে। অন্য রোগীদের কথা ভেবে হাসপাতালে আলাদা জায়গা তৈরি করা হয় তাঁদের জন্য। অন্তত ১৪ দিনের মেয়াদে আইসোলেশন চলে। অসুখের গতিপ্রকৃতি দেখে তা বাড়ানোও হয়।
আইসোলেশনে থাকা রোগীর সঙ্গে বাইরের কারো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। তাঁদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গেও এ সময় দেখা করতে দেওয়া হয় না। একান্ত দেখা করতে দেওয়া হলেও অনেক বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।
এখন পর্যন্ত এই রোগের কোনো প্রতিষেধক মেলেনি। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে এ সময় কিছু অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ দিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায়। এমন কিছু ওষুধ ও পথ্য দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা হয়। যাদের শরীরে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি ও করোনার প্রকোপ অল্প, তারা এই পদ্ধতিতে সুস্থও হন। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের পক্ষে সেরে ওঠাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
কোয়ারেন্টিন : করোনার জীবাণু শরীরে প্রবেশ করার পর পরই তার উপসর্গ দেখা দেয় না। তাই কোনো ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে ঘুরে এলে বা রোগীর সংস্পর্শে এলে তার শরীরেও করোনাভাইরাস বাসা বাঁধতে পারে। বাসা আদৌ বেঁধেছে কি না, বা আক্রান্ত কি না, এটা বুঝে নিতেই কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয় রোগীকে। অন্য রোগীদের কথা ভেবেই কোয়ারেন্টিন কখনো হাসপাতালে করা হয় না। করোনা হতে পারে এমন ব্যক্তিকে সরকারি কোয়ারেন্টিন পয়েন্টে রাখা হয়।
এখানেও কমপক্ষে ১৪ দিনের সময়সীমা রয়েছে। এ সময় শুধু রোগের আশঙ্কা থাকে, তাই কোনো রকম ওষুধপত্র দেওয়া হয় না। শুধু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়। বাইরে বের হওয়া বন্ধ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। যেহেতু রোগের জীবাণু থাকতেও পারে, তাই মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়। বাড়ির লোকদেরও এ সময় রোগীর সঙ্গে কম যোগাযোগ রাখতে বলা হয়।
হোম কোয়ারেন্টিন : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হোম আইসোলেশন বলে কিছু হয় না। আইসোলেশন বাড়িতে রেখে সম্ভবও নয়। বরং হোম কোয়ারেন্টিন বলাটা অনেক যুক্তিযুক্ত। কোনো ব্যক্তি যখন নিজের বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনের সব নিয়ম মেনে বাইরের লোকজনের সঙ্গে ওঠাবসা বন্ধ করে আলাদা থাকেন, তখন তাকে হোম কোয়ারেন্টিন বলে। সম্প্রতি আক্রান্ত দেশ থেকে ঘুরে না এলে রোগীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এক্ষেত্রেও ন্যূনতম ১৪ দিন ধরে আলাদা থাকার কথা। কোনো ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে ঘুরে এলে, বা রোগীর সংস্পর্শে এলে তার শরীরেও বাসা বাঁধতে পারে কোভিড-১৯। বাসা আদৌ বেঁধেছে কি না, বা সে আক্রান্ত কি না এটা বুঝে নিতেই এই ব্যবস্থা করতে হয়।
এক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধির বাইরে কোনো আলাদা ওষুধ দেওয়ার প্রশ্ন নেই। পানি পান করা, ভালো করে খাওয়া-দাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর নানা পথ্য, এসব দিয়েই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

অনলাইন ডেস্ক