করোনায় মৃত্যু থামার লক্ষণ নেই, প্রতিরোধে আশার আলোও নেই
চীনের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯০ জনে। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন নতুন এই তথ্য দিয়েছে। এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি আর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতির কথা স্বীকার করেছে চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ফিলিপাইনের পর হংকংয়েও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে এখনো ‘মহামারি’ বলা যায় না জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে এটি প্রতিরোধে আশার আলোও দেখাতে পারছেন না কেউ।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন আজ বুধবার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনাভাইরাসে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৩২৪ জনে। এর পাশাপাশি আরো তিন হাজার ৮৭৭ জনকে ভাইরাস আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষের দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম ধরা পড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি। সময় অনেক গড়ালেও আক্রান্ত এলাকায় ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির এখন পর্যন্ত তেমন উন্নতি হয়নি। উল্টো অবনতি হচ্ছে। সেইসঙ্গে ভাইরাসটি সংক্রমিত হচ্ছে আশপাশের একাধিক শহরে। বেশ কিছু জায়গা নতুন করে অবরুদ্ধ করেছে চীন সরকার। একটা করে রাত কাটছে আর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা। আর গতকাল সোমবার মৃতের সংখ্যা অতীতের সব পরিসংখ্যানকেও ছাড়িয়ে যায়।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ত্রুটি ও নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে নিয়েছে চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব। গতকাল সোমবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সভাপতিত্বে বৈঠক শেষে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি বলছে, এখন দেশের জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনার সিস্টেমে উন্নতি ঘটাতে হবে। এ ছাড়া ভাইরাসের উৎপত্তিস্থলের বন্যপ্রাণীর বাজারে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চীনের বাইরে অন্তত ২৫টি দেশ ও অঞ্চলে অন্তত দেড়শ মানুষের দেহে এই করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ধরা পড়ছে। চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে ফিলিপাইনের পর এবার হংকংয়েও একজনের মৃত্যু হয়েছে নতুন এ করোনাভাইরাসে। দিল্লিতেও ছড়াচ্ছে করোনা আতঙ্ক। দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় ইতোমধ্যে তিনজনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এরপরই করোনাভাইরাস সংক্রমণকে ‘রাজ্য বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা করে কেরালা সরকার।
এদিকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মালয়েশিয়া, জাপান, তাইওয়ান, ব্রাজিলসহ আরো অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের চীন থেকে ফেরত আনার কাজ শুরু করেছে। বিশ্বব্যাপী এমন আতঙ্কের মাঝে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির প্রকোপ থামার কোনো লক্ষণ নেই। আর এটি প্রতিরোধে আশার আলোও দেখাতে পারছেন না কেউ।

অনলাইন ডেস্ক