জাপানের নির্বাচনে বড় জয়ের পথে তাকাইচি
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায় তাকাইচি আজ রোববারের (৮ ফেব্রুয়ারি) আগাম নির্বাচনে বিশাল জয়ের পথে রয়েছেন। তবে এই ফলাফল চীনকে ক্ষুব্ধ করতে এবং আর্থিক বাজারকে কিছুটা অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের মেয়াদের শুরুতেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তাকাইচির ক্ষমতাসীন জোট নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে চলেছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
যদি এই ফলাফল নিশ্চিত হয়, তবে ২০১৭ সালে তাকাইচির রাজনৈতিক গুরু এবং আততায়ীর হাতে নিহত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সময়ের পর এটিই হবে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) জন্য সেরা ফলাফল।
গণমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪৬৫টি আসনের মধ্যে এলডিপি একাই প্রায় ৩০০টি আসন পেতে পারে (যা আগে ছিল ১৯৮টি)। এর ফলে দলটি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা—এমনকি তাদের ছোট সহযোগী দল জাপান ইনোভেশন পার্টিকে (জেআইপি) ছাড়াই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করতে পারে।
এলডিপির মহাসচিব শুনিচি সুজুকি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সানায় তাকাইচির দায়িত্বশীল, সক্রিয় আর্থিক নীতি এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার পদক্ষেপের প্রতি ভোটাররা সমর্থন জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (সিডিপি) এবং এলডিপির সাবেক সহযোগী দল কোমেইতোর সমন্বয়ে গঠিত নতুন 'সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স' তাদের ১৬৭টি আসনের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি হারাতে পারে বলে মনে হচ্ছে। দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, অভিবাসন বিরোধী দল সানসেইতোর আসন সংখ্যা ২ থেকে বেড়ে ১৪-তে পৌঁছাতে পারে।
ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় তাকাইচি
তাকাইচি এলডিপির মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছেন। গত কয়েক দশক ধরে দলটি প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে জাপান শাসন করলেও সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির অভিযোগে জনসমর্থন হারিয়েছিল।
যৌবনকালে হেভি মেটাল ড্রামার এবং ব্রিটেনের ‘আয়রন লেডি’ মার্গারেট থ্যাচারের ভক্ত তাকাইচি গত অক্টোবরে যখন দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তাকে এলডিপির অতিরক্ষণশীল অংশের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয়েছিল।
সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি ভোটারদের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সাথে একটি কে-পপ গানে তার ড্রাম বাজানোর ভিডিও ভক্তরা বেশ পছন্দ করেছেন।
এছাড়া দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে তিনি কোনো ত্রুটি রাখেননি। নির্বাচনের দুই দিন আগে ট্রাম্প তাকাইচিকে একজন শক্তিশালী, ক্ষমতাধর ও বিজ্ঞ নেতা হিসেবে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
তবে তাকাইচিকে এখন অর্থনীতি এবং মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় সফল হতে হবে—যে সমস্যার কারণে তার পূর্বসূরি ফুমিও কিশিদা এবং শিগেরু ইশিবার পতন ঘটেছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক