করোনায় মৃত বেড়ে ১০ হাজার ১৭৮, আক্রান্ত প্রায় আড়াই লাখ
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৭৮ জনে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৪৬ হাজার ৭২২ জন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৬ হাজার ৫৪ জন। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বার্তা সংস্থা বিএনও নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
এরই মধ্যে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এর মধ্যে ইতালির অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৪০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪২৭ জন। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে এবার চীনকেও হার মানাল ইতালি। এরই মধ্যে চীন করোনার সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা একদমই কমিয়ে এনেছে। কিন্তু ইতালিতে সংক্রমণ কমে যাওয়ার কোনো নামগন্ধও নেই। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪১ হাজার ৩৫ জনে পৌঁছেছে।
ইতালি ছাড়াও ইউরোপের মধ্যে স্পেনের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৩ জনে। এ ছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৮ হাজার ৭৭ জনে পৌঁছেছে। করোনা আতঙ্কে স্পেনের পথঘাট জনমানবশূন্য। এ ছাড়া স্পেনের পার্লামেন্টের চিত্রও ছিল এমন।
এদিকে, করোনা আতঙ্কে ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার বা এলিসি প্রাসাদও এখন জনমানবশূন্য। সেখানে যেসব রাস্তায় লাখো মানুষের সমাগম হতো, এখন সেসব জায়গা ফাঁকা পড়ে আছে। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ হাজার।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা প্রায় দেড়শ। আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২৬৯ জনে। জার্মানিতে ৪৪ জন মৃতের পাশাপাশি আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৩২০ জন। সুইজারল্যান্ডে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ১৬১ জন। নেদারল্যান্ডসে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৭৬ জনের। আর আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৪৬০ জন।
এরই মধ্যে ইউরোপের দেশগুলোতে মহামারি মোকাবিলায় ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক বরাদ্দ দিয়েছে ৭৫০ বিলিয়ন ইউরো।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে বেড়েই চলছে মৃতের সংখ্যা। যত দিন যাচ্ছে, দীর্ঘ হচ্ছে মৃতের সারি। ইরান সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪০৭ জনে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১৪৫ জনে। যুক্তরাষ্ট্রের সবকটি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ত্রাণ সহায়তা বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। বিনামূল্যে মার্কিনিদের করোনাভাইরাসের পরীক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কর্মজীবীদের সহায়তার জন্য এই বিল পাস করা হয়েছে। বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বিমান পরিবহন বন্ধ হতে চলেছে। অস্ট্রেলিয়ার কানতাস এয়ারলাইনস, এয়ার কানাডা ও রায়ান এয়ার আন্তর্জাতিক রুটে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রস আধানম নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আফ্রিকার দেশগুলোতে করোনাভাইরাস সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। এরই মধ্যে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করেছে চীন। ক্লিনিক্যালি তারা এই প্রতিষেধক ব্যবহারও শুরু করেছে। তবে ভাইরাসটি মানবদেহের বাইরে কতক্ষণ টিকে থাকতে পারে, তা জানিয়েছে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিস। তারা বলছে, আক্রান্তের কাশি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বাতাসে তিন ঘণ্টা এবং বাসাবাড়ি বা হাসপাতালের মেঝে ও আসবাবপত্রে একদিনের বেশি সময় টিকে থাকতে পারে।
তাদের পরামর্শ, সংক্রমণ এড়াতে অবশ্যই সবার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। মুখ-নাক-চোখ স্পর্শ করা যাবে না, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢাকতে হবে এবং হাতের পাশাপাশি ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য বস্তু বারবার জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

অনলাইন ডেস্ক