কাজ না করলে সাংসদদের বেতন বন্ধ!
‘দেশ চলছে, সময় চলছে, জীবনও চলছে। চলছে না শুধু ভারতের সংসদ। কবে সংসদ ঠিকঠাক চলবে তা জানেন না কেউই। ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর লাগাতার আন্দোলনের জেরে চলছে সংসদে এই অচল অবস্থা।’ কথাগুলো ভারতের কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী মহেশ শর্মার।
আজ রোববার ভারতের বারানসিতে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “বারবার নানা অছিলায় কংগ্রেসসহ বিরোধীরা সংসদ অচল করে দিচ্ছেন। ফলে সাংসদদের জন্য ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ সিস্টেম চালু করার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার।”
মহেশ শর্মা আরো বলেন, ‘বেশ কয়েকবার সর্বদলীয় বৈঠকের পরেও সংসদ সচল রাখতে কোনো ভূমিকাই নেই বিরোধীদের, বরং অচল রাখার পথেই হাঁটছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, বিরোধিতা করার কোনো সঠিক কারণ না থাকলেও কংগ্রেস নানা উদ্ভট উপলক্ষ তুলে অধিবেশনের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে।’
এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রীর পরামর্শ, দেশের দিনমজুররা যেভাবে কাজ না করলে বেতন পান না, সেভাবেই কাজ না করলে সাংসদদেরও বেতন দেওয়া উচিত না।
উল্লেখ্য, ভারতীয় বিধানসভার চলতি অধিবেশন গত কয়েকদিন থেকেই বারবার বিরোধীদের হস্তক্ষেপে ব্যাহত হচ্ছে। কখনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ইস্তাফার দাবিতে, কখনো রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে ও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ চৌহানের ইস্তফার দাবিতে বিরোধীরা সংসদ উত্তাল করে কার্যত অধিবেশন অচল করে দিয়েছেন। এর মধ্যেই আগামীকাল সোমবার ফের সংসদের জট কাটাতে সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে।
সর্বদলীয় বৈঠকে সমস্ত রাজনৈতিক দলের সাংসদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। যদিও এটাই প্রথম নয়। গত দুই সপ্তাহে সংসদ সচল রাখার অভিপ্রায়ে অন্তত তিনবার সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। সংসদের অধ্যক্ষ সুমিত্রা মহাজন নিজে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে সবাইকে অনুরোধ করেও ফল হয়নি। বারবার একই কাণ্ড। বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, সিপিআইএম এবং তৃণমূলের সাংসদরা কার্যত একযোগে সুষমা স্বরাজ, বসুন্ধরা রাজে ও শিবরাজ সিং চৌহানের ইস্তাফা এবং সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ সন্ত্রাসবাদী ভাবমূর্তির বিরোধিতার আসরে নেমেছে। এই অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী মহেশ শর্মা শেষমেশ সংসদে ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ সিস্টেম চালু করার পরামর্শ দিলেন।

কলকাতা সংবাদদাতা