যেখানে ঝাড়ুদারদের বেতন আড়াই লাখ, ইঞ্জিনিয়ারদের ১০ লাখ
সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পেনশনের ব্যয় গত এক দশকে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে। গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজ্যের মুখ্য সচিব কে. রামকৃষ্ণ রাও এক সম্মেলনে জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজ্যে বেতন ও পেনশন বাবদ মাসিক খরচ প্রায় ৬ হাজার কোটি রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৩২ কোটি টাকা) দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সালে তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের সময় এই খরচের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ হাজার ৫০০ কোটি রুপি (প্রায় ২ হাজার ৮ কোটি টাকা)। অর্থাৎ গত ১০ বছরে এই ব্যয় ঠিক ৪ গুণ বেড়েছে।
মুখ্য সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিদ্যুৎ বিভাগ ও পৌরসভাগুলোতে বেতন কাঠামো এখন এতটাই উন্নত যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা আইএএস অফিসার বা রাজ্যপালের বেতনকেও ছাড়িয়ে গেছে।
তেলেঙ্গানার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন কোম্পানিগুলোতে কর্মরত প্রধান প্রকৌশলীদের মাসিক বেতন এখন প্রায় ৭ লাখ রুপি (প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা) পর্যন্ত পৌঁছেছে। একইভাবে, গ্রেটার হায়দ্রাবাদ মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনে কর্মরত প্রবীণ পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা ঝাড়ুদারদের গড় বেতন প্রায় ৭০ হাজার টাকা। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কর্মরত (শ্রেণি-৪) প্রবীণ কর্মীরা মাসে প্রায় ২ লাখ রুপি (প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা) পর্যন্ত বেতন পাচ্ছেন। এমনকি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকারি গাড়ির চালকদের বেতনও মাসিক ১ লাখ রুপি (প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা) ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল বেতন বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো গত এক দশকে দুই দফায় পে-রিভিশন কমিশন (পিআরসি) গঠন এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ‘ফিটমেন্ট বেনিফিট’ বা বিশেষ সুবিধা।
মুখ্য সচিব জানান, তেলেঙ্গানা এখন ভারতের অন্যতম উচ্চ বেতন প্রদানকারী রাজ্যে পরিণত হয়েছে। যার ফলে সরকারি চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা বহু গুণ বেড়ে গেছে। সম্প্রতি ৫৬৩টি গ্রুপ-১ পদের বিপরীতে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ প্রার্থী আবেদন করেছেন। যেখানে প্রতিটি পদের জন্য ৭৯৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিশাল এই খরচ সামলানো প্রসঙ্গে সচিব বলেন, রাজ্যের জোরালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং রাজস্ব বৃদ্ধি এই ব্যয়ভার বহনে সহায়তা করছে। তবে রিজার্ভ ব্যাংক ও ক্যাগের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, রাজ্যের মোট রাজস্বের প্রায় ৪৫ থেকে ৪৮ শতাংশই ব্যয় হচ্ছে বেতন, পেনশন ও ঋণের সুদ পরিশোধে। যা উন্নয়নমূলক কাজের জন্য উচ্চ বাজেট প্রদানে বাধাগ্রস্ত করছে। তবুও রাজ্য সরকার তার কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানানো হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী, রাজ্যের মোট আয় ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৩০ লাখ কোটি টাকা এবং ব্যয় ২ দশমিক ২৭ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে শিক্ষা খাতে ২৩ হাজার ১০৮ কোটি এবং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে ২৪ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক