ভারতে কুকুর নিয়ে আগের রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট
রাস্তাঘাট ও পাবলিক প্লেস থেকে বেওয়ারিশ বা ভবঘুরে কুকুর সরিয়ে নেওয়ার জন্য গত বছরের নভেম্বরের দেওয়া আদেশ পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) ঐতিহাসিক রায়ে আদালত সাফ জানিয়েছেন, কুকুরের কামড় বা আক্রমণের ভয় ছাড়া নাগরিকদের শান্তিতে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র এ বিষয়ে ‘নিষ্ক্রিয় দর্শক’ হয়ে থাকতে পারে না। খবর এনডিটিভির।
বিশেষ করে, সুপ্রিম কোর্টের আগের একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছিল- রাস্তা থেকে কুকুর ধরে বন্ধ্যাকরণ করার পর সেগুলোকে আর আগের জায়গায় ফেরত পাঠানো যাবে না। পশুপ্রেমী ও প্রাণীর অধিকার রক্ষাকারী কর্মীরা এর বিরোধিতা করে আবেদন করেছিলেন। তাদের দাবি, কুকুরদের নতুন জায়গায় স্থানান্তর করলে তারা দিকভ্রান্ত হয়ে আরও বেশি হিংস্র হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু আদালত আজ সেই যুক্তি পুরোপুরি খারিজ করে দেন।
বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ রায়ে বলেন, ‘আদালত নির্মম বাস্তবতাকে উপেক্ষা করতে পারে না... যেখানে শিশু, আন্তর্জাতিক পর্যটক ও প্রবীণ ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন।
আদালত আরও বলেন, আমরা গত বছরের ৭ নভেম্বরের রায় প্রত্যাহারের আবেদনগুলো বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করেছি, কিন্তু সব আবেদনই খারিজ করা হলো। পাবলিক প্লেসে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে আদালত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড অব ইন্ডিয়ার (এডব্লিউবিআই) নিয়মগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বর মাসে হাসপাতাল, পার্ক, রেলওয়ে স্টেশনের মতো জনাকীর্ণ স্থান থেকে বেওয়ারিশ কুকুর সরিয়ে শেল্টার হোমে নেওয়ার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে সাধারণ পাবলিক প্লেসে কুকুরকে খাবার খাওয়ানো নিষিদ্ধ করা হয় (শুধুমাত্র নির্ধারিত এলাকা ব্যতীত)। এর আগে জুলাই মাসেও দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকার আবাসিক এলাকা থেকে কুকুর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, সরকারি কর্মকর্তাদের এই কাজে বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পশু অধিকার বিষয়ক এনজিওগুলো এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে আজ তা চূড়ান্তভাবে খারিজ হলো।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক