ওড়া পাখির অধিকার কি না, রায় দেবে আদালত
পাখি উড়বে এটিই স্বাভাবিক। ওড়া প্রকৃতির দেওয়া পাখির মৌলিক অধিকার। সে ক্ষেত্রে খাঁচায় পাখি রাখা কি এই মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী নয়? পাখিকে উড়তে দেওয়া এর মৌলিক অধিকার, তাই একে খাঁচায় রাখা যাবে না—ভারতের গুজরাট হাইকোর্টের এমন একটি রায়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এইচ এল দত্ত এবং বিচারপতি শিব কীর্তি সিং ও অমিতাভ রায়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ পাখির মৌলিক অধিকার বিষয়ে গুজরাট হাইকোর্টের রায়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন।
বিক্রেতাদের হাত থেকে ৪৯৪টি পাখি উদ্ধারের পর গুজরাটের হাইকোর্ট পাখিদের ওড়ার অধিকার বিষয়ে রায় দেন। উদ্ধারকৃত পাখির বেশির ভাগেরই পাখা ও লেজ কেটে দেওয়া হয়েছিল। আবার অনেক পাখির পাখায় লাগানো হয়েছিল স্কচটেপ লাগানো এবং পায়ে ছিল ভারী রিং। তবে পাখির বাজারের এটিই স্বাভাবিক বলে দাবি করেন সাংবাদিকরা।
গুজরাট হাইকোটের রায় অনুযায়ী, পাখিকে খাঁচায় রাখা অপরাধ কারণ এটি পাখির ওড়ার মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। প্রকৃতিক পরিবেশে থাকা ও ওড়া পাখির মৌলিক অধিকার। আর পাখির ওড়ার অধিকার যেন নিশ্চিত হয় তা দেখা দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
গুজরাট হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ‘পেট লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বলে একটি বেসরকারি সংস্থা। এর দাবি, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী খাঁচার পাখির রাখার অধিকার আছে প্রতিটি নাগরিকের।
পেট লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষের আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অনেক গবেষণায়ই এটি প্রমাণিত যে, বাস বাড়িতে খাঁচাটায় পাখি রাখায় অনেক স্বাস্থ্যগত সমস্যা দূর হয়। একই সঙ্গে এটি ব্যক্তিকে মানসিক প্রশান্তিও দিতে পারে। তিনি দাবি করেন, গুজরাট হাইকোর্টের রায় বিলুপ্তপ্রায় পাখি রক্ষার আইনের পরিপন্থী।

অনলাইন ডেস্ক