কাশ্মীরের রহস্যময় ৬০ ক্যারেটের নীলমণি
দুই দশক আগে নিজের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া রত্ন দেখার প্রস্তাব পেয়ে অনেকটা হতবাক হয়েছেন জেনেভার রত্নবিশারদ রনি টোটাহ। হতবাক হওয়ারই কথা, নিলামে তাঁর হারিয়ে যাওয়া এই রত্নটির দাম হাঁকা হয়েছে এক কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। হারিয়ে যাওয়ার দুই দশক পর এ রত্নটি কোথায় পেল নিলামকারী প্রতিষ্ঠান-এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য।
এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রায় ৬০ ক্যারেট ওজনের কাশ্মীরি নীলকান্তমণি বা নীলাটি বর্তমানে ফিলিপস নিলামঘরে শোভা পাচ্ছে। প্রায় দুই দশক আগে মিলানের একটি হোটেল থেকে চুরি হয়ে যাওয়ার আগে বিরল এই নীলাটির মালিক ছিলেন রনি টোটাহ।
গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে রনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি এটির প্রত্যয়নপত্র দেখেছি এবং আমি নিজে নিজেই বলেছি, এটিই সেটি, এটিই সেটি।’
১৯৯৬ সালে অন্যান্য গয়নার সঙ্গে বালিশ আকৃতির নীলাসংবলিত একটি ব্রেসলেটকেও নিলামে দেওয়ার প্রস্তাব পায় গয়না বিক্রয় প্রতিষ্ঠান হরোভিৎজ অ্যান্ড টোটাহ (এইচঅ্যান্ডটি)। ওই বছরের ১৪ নভেম্বর নিলামকারী প্রতিষ্ঠান অ্যান্টিকোরাম ইতালির মিলানের ফোর সিজন হোটেলে নিলামে তোলে। সুইজারল্যান্ডের দৈনিক লি টেম্পের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্ধশতাধিক মানুষ ওই হোটেলে নিলামে অংশ নেন। নিলামে প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নীলকান্তমণি। কিন্তু সেখান থেকে এটি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়।
টোটাহ বলেন, ‘এটি ছিল ভয়াবহ ঘটনা। ডাকাতির শিকার হওয়াটা সব সময়ই কষ্টের।’
২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর ফিলিপস নিলামঘরের একটি ইমেইল পান টোটাহ। ওই ইমেইলে ৫০ দশমিক ৫৭ ক্যারেটের কাশ্মীরি নীলকান্তমণিটিকে নিলামে তোলার আগে পরীক্ষা করার জন্য তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। টোটাহ এই নীলাটি দেখেননি। কিন্তু এর প্রত্যয়নপত্র খুব ভালোভাবে পরীক্ষা করেন। তিনি বলেন, এর ওজন, আকৃতি সব কিছু দেখে মনে হচ্ছে খুব সম্ভবত এটি এইচঅ্যান্ডটির চুরি হয়ে যাওয়া সেই নীলকান্তমণিটিই।

অনলাইন ডেস্ক