ফারুক আবদুল্লাহকে হত্যাচেষ্টা, অল্পের জন্য রক্ষা
জম্মু ও কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ও বর্ষীয়ান নেতা ফারুক আবদুল্লাহ এক ভয়াবহ ‘হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা’ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় জম্মুর একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে এক আততায়ী তাকে অত্যন্ত কাছ থেকে (পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ) লক্ষ্য করে গুলি করার চেষ্টা করে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষী (এনএসজি) কমান্ডোদের সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ৮৮ বছর বয়সী এই নেতা বেঁচে ফিরেছেন। খবর এনডিটিভির।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জম্মুর গ্রেটার কৈলাশের রয়্যাল পার্কে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছিলেন ফারুক আবদুল্লাহ। ভিডিওতে দেখা গেছে, আক্রমণকারী ব্যক্তি আবদুল্লাহর মাত্র কয়েক ধাপ পেছনে ছিল ও তার কাঁধের কাছে হাত বাড়িয়ে গুলি চালায়। ঠিক সেই মুহূর্তে এনএসজি কমান্ডোরা তাকে ধাক্কা দিলে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ঘটনার সময় তার সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী ও মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির সোগামি উপস্থিত ছিলেন।
আক্রমণকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার নাম কমল সিং জামওয়াল (৬৫)। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জম্মুর পুরানাস মান্ডির এই বাসিন্দা পুলিশের কাছে কোনো অনুশোচনা ছাড়াই জানায়, সে গত ২০ বছর ধরে ফারুক আবদুল্লাহকে হত্যার এই মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিল। ভিডিওতে দেখা গেছে, গ্রেপ্তারের পর উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করছে।
মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ তার বাবার ওপর এই হামলাকে ‘হত্যার চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ দয়ালু যে আমার বাবা বেঁচে গেছেন। তবে একজন জেড-প্লাস ও এনএসজি সুরক্ষাপ্রাপ্ত সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর এত কাছে লোডেড পিস্তল নিয়ে কেউ কীভাবে পৌঁছাতে পারল, তা নিয়ে অনেক বড় প্রশ্ন রয়েছে।’
উপদেষ্টা নাসির সোগামি এই ঘটনাকে বড় ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে ফারুক আবদুল্লাহ ও উপস্থিত বাকি সবাই নিরাপদ আছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ এই হামলার নেপথ্যে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক