ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত মানচিত্রে কাশ্মীর পুরোটাই ভারতের!
ভারতের সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্য সমঝোতার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন জানিয়েছে, ভারতের পণ্য এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে ১৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। আগের ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে নতুন এই শুল্কহার আরোপ করেছে দেশটির বাণিজ্য দপ্তর। এছাড়া বেশ কিছু ভারতীয় পণ্যে শূন্য হারে শুল্ক আরোপের কথাও জানিয়েছে দপ্তরটি।
তবে প্রশ্ন ওঠেছে নয়াদিল্লির সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য সমঝোতার কথা জানাতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ভারতের যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে সেটি নিয়ে। প্রকাশিত ওই মানচিত্রে পুরো কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভূক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ভারতের সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, এক্সে হ্যান্ডেলে মার্কিন বাণিজ্য দূতের দপ্তরের পোস্টে ভারতের যে মানচিত্র দেওয়া হয়েছে তাতে ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীর তো বটেই, এমনকি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরও স্থান পেয়েছে। এমনকি চীনের দাবি করা ‘আকসাই চীন’কেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাশাপাশি চীনের দাবি করা ভূখণ্ডকেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য দূতের দপ্তর। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এর আগে প্রকাশিত মার্কিন মানচিত্রগুলোতে ‘আজাদ কাশ্মীর’কে আলাদাভাবে দেখানো হতো।
এদিকে, এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় পুরো কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানোটা ইসলামাবাদের প্রতি একধরনের মার্কিন বার্তা। এতে আরও বলা হয়, ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য এটা কোনো বাগাড়ম্বর নয়, বরং প্রকৃত তথ্যই যথেষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দেশটির নেতৃত্ব ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রের সাথে একমত, তারা মূলত বাস্তবতাকে সমর্থন করে এবং কোনো ভিত্তিহীন আঞ্চলিক দাবির পক্ষে নয়।
একাধিক মার্কিন পণ্যের ভারতে ঢুকতে শুল্ক কমছে, এমনটা জানাতে গিয়ে ওই মানচিত্রসহ এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট দেয় মার্কিন বাণিজ্য দূতের কার্যালয়। তাতে বলা হয়, কাঠবাদাম থেকে শুরু করে অসংখ্য পণ্য ভারতে নতুন বাজার পেতে যাচ্ছে।
তবে প্রকাশিত এই মানচিত্র নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে দেখা যাচ্ছিল।
এরকম পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এমন মানচিত্র প্রকাশ ইসলামাবাদের জন্য বড় ধাক্কা বলেই বিবেচিত হবে, এমনটাই বলছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষকরা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক