প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লি যেন দুর্ভেদ্য দুর্গ
গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদে বিমানবিধ্বংসী কামান, হাজার স্নাইপার আর গলির মোড়ে মোড়ে সেনাবাহিনী। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে যেন দুর্ভেদ্য এক দুর্গে পরিণত হয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ৬৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দিল্লির রাস্তায় সেনাবাহিনীর কড়া প্রহরা। এ বছরের শুরুতেই পাঠানকোটে জঙ্গি হামলার স্মৃতি মুছে দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছে সেনাবাহিনী। ফলে, কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে দেশজুড়ে তল্লাশি চালিয়ে কমপক্ষে ২০ জন সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ।
দিল্লির ৩১টি জনবহুল জায়গা এবং ১৩টি মেট্রো স্টেশনে দুর্যোগ সচেতনতা কেন্দ্র বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলেই পুলিস কন্ট্রোল রুম থেকে এলাকার মানুষকে সতর্ক করে দেওয়া হবে। রাজধানীর প্রতিটি থানায় তৈরি আছে জরুরি নিরাপত্তা বাহিনী। এ ছাড়াও নিরাপত্তার অন্যান্য রুটিন বিষয়গুলো তো আছেই। শুধুমাত্র রাজধানী নয়, প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশের সব প্রান্তেই নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা।
দিবসটিকে ঘিরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। প্রজাতন্ত্র দিবসের কর্মসূচির শুরুতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বিজয়চকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উপরাষ্ট্রপতি ড. হামিদ আনসারী, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পাড়েকরসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা। দেশটির প্রধান বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদবানিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিন ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক সামরিক শক্তি এবং দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এই কুচকাওয়াজে ফুটে ওঠে। আকাশপথে প্রদর্শিত হয় এয়ারফোর্সের ফ্লাই পাস্ট। প্রদর্শিত হয় বাইক স্টান্ট।
কুচকাওয়াজে অংশ নেয় সিআরপিএফের মহিলা বাহিনী ও বিএসএফের উট বাহিনী। প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রদর্শন করা হয় ব্রাহমোদ মিসাইল।
এ ছাড়া এদিনের উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দিবসের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিদেশি সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিদল হিসেবে ফরাসি সেনাবাহিনীর ৩৫ ইনফেন্ট্রি রেজিমেন্টের এক প্রতিনিধিদল কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ।
২৬ বছর পর এবারে কুচকাওয়াজে দেখা যায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াডকে। এদিন সকালে দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটের সামনে শহীদ জওয়ানদের স্মৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। এ ছাড়া এদিন ৩৬৫ জনকে শৌর্য-সম্মান প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

অনলাইন ডেস্ক