মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাশিদের ১৩ বছর কারাদণ্ড
মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদকে ১৩ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফৌজদারি আদালত। সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তিন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় গভীর রাতে এ রায় ঘোষণা করেন।
তিন বিচারকই একমত হয়েছেন, ২০১২ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে নাশিদ এক জ্যেষ্ঠ বিচারককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে অপরাধ করেছেন। এ জন্য তাঁকে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে নাশিদ রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁকে রাজধানী মালের ধোনিধো কারগারে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এ রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিচারক আব্দুল্লা দিদি রায় ঘোষণার সময় বলেন, নাশিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালতের প্রধান বিচারক আবদুল্লাহ মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
নাশিদের সমর্থকরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরানোর লক্ষেই প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন। নাশিদের মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির (এমডিপি) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই বিচারকে ‘ন্যক্কারজনক রাজনীতিকরণ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
মালদ্বীপবাসীর বর্তমান স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাশিদ বলেছেন, মালদ্বীপের বিচারব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং সম্মান হারিয়েছে। বিচারকরা নিয়মিত ঘুষ নিচ্ছেন।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গত ২২ ফেব্রুয়ারি নাশিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই বিচারককে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পুলিশ ও সেনা বিক্ষোভের মুখে নাশিদ পদত্যাগ করেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুমের কাছে হেরে যান। ইয়ামিন সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমের সৎভাই।

অনলাইন ডেস্ক