রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলো ভারতের উত্তরাখণ্ডে
টানা কয়েকদিনের রাজনৈতিক টানাপড়েনের পর ভারতের কংগ্রেস শাসিত উত্তরাখণ্ড রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে। স্টিং কাণ্ডের জেরেই আজ রোববার রাজ্যটির হরিশ রাওয়াত সরকার ভেঙে দেওয়া হয়।
উত্তরাখণ্ড রাজ্যে গত বেশ কিছুদিন ধরেই সংকট চলছিল। উত্তরাখণ্ড রাজ্যপাল কে কে পাল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে আগেই সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা জানান। কেন্দ্রের অনুমোদনের ভিত্তিতে আজ সকালে উত্তরাখণ্ড রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। ভারতীয় সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।
উত্তরাখণ্ডে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্রীয় সরকারের হুমকি এবং গণতন্ত্রকে হত্যা করার শামিল বলে জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত। তিনি বলেন, উত্তরাখণ্ডের মতো ছোট রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির ক্ষেত্রে কোনো ধারাই মানা হয়নি। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে এটি করিয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তরাখণ্ড রাজ্যে কংগ্রেস পরিচালিত হরিশ রাওয়াত সরকারের অচলাবস্থা চলছিল। সম্প্রতি নয়জন কংগ্রেস বিধায়ক দলটি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি তোলে বিরোধীরা। হরিশ রাওয়াত সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই বলে স্বোচ্চার হন তারা। আর সম্প্রতি প্রকাশিত স্টিং অপারেশনের ভিডিওতে দেখা যায়, গদি বাঁচাতে টাকা দিয়ে ওই বিধায়কদের কিনছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। এ ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। তারপর উত্তরাখণ্ডের বিধানসভার স্পিকার গোবিন্দ সিং বিষয়টি জানতে চেয়ে নয় কংগ্রেস বিধায়কের কাছে নোটিশ পাঠান।
জানা গেছে, উত্তরাখণ্ডের অচলাবস্থা নিয়ে শনিবার রাতে ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে উত্তরাখণ্ডে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে আজ উত্তরাখণ্ডে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

কলকাতা সংবাদদাতা