মনোনয়নপত্র জমা দিলেন মমতা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ শুক্রবার দুপুরে আলিপুর প্রশাসনিক ভবনের সার্ভে বিল্ডিংয়ে উপস্থিত থেকে নিজেই মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মমতার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া উপলক্ষে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি কর্মী-সমর্থক তাঁর সঙ্গে আসেন। তাঁদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। মমতার সঙ্গে ছিলেন মুকুল রায়, সুব্রত বকশীসহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতারাও। মমতার পাশাপাশি তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়সহ একাধিক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাও মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এই একই ভবনে আজ মনোনয়নপত্র জমা দেন আলিপুর কেন্দ্রে মমতার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী দীপা দাসমুন্সি। সকাল থেকে এই ভবন ও ভবনের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ভবনে প্রবেশের সময় মমতা সাংবাদিকদের ‘ভি’ চিহ্ন দেখান। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরেই মমতা নারায়ণগড়ে নির্বাচনী জনসভা করার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। মমতার নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে মূলত তাঁর হয়ে বর্তমানে প্রচারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দলীয় নেতানেত্রীরা। নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে এখনো পর্যন্ত সেই অর্থে বড়সড় প্রচারণা চালাতে পারেননি মমতা। দলীয় প্রার্থীদের প্রচারের কাজে প্রায় প্রতিদিনই তিনি বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী সভা করে বেড়াচ্ছেন। এ কারণে মমতার হয়ে এ কেন্দ্রে প্রচারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দলের অন্য নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এ কেন্দ্রে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে মমতাকে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন ভারতীয় কংগ্রেসের পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ দীপা দাসমুন্সি। আর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) থেকে প্রার্থী হয়েছেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর নাতি চন্দ্র কুমার বসু।
এ ছাড়া এই কেন্দ্রে লোকজনশক্তির (এলজিপি) প্রার্থী হয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের ববি হালদার। ফলে এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। আগামী ৩০ এপ্রিল ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।

কলকাতা সংবাদদাতা