সময় বাঁচাতে রাতে ভ্রমণ, বিমানেই ঘুম মোদির!
ব্যাগ তল্লাশিসহ বিমানবন্দরের যাবতীয় আনুষ্ঠিকতা বিমানেই সম্পন্ন হয়েছে। বিমান চলেছে রাতে, আর বিদেশ সফরে গিয়ে বেশির ভাগ রাত তিনি ঘুমান বিমানেই! বলা হচ্ছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথা। সময় বাঁচাতে সম্প্রতি বিদেশ সফরে গিয়ে এই অভিনব সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
মোদি গত ৩০ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব সফর করেছেন। দিল্লি থেকে ব্রাসেলস, ব্রাসেলস থেকে ওয়াশিংটন ডিসি এবং এখান থেকে রিয়াদে যাওয়ার সময় তিনি তিন রাত ‘এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান’-এ কাটিয়েছিলেন। তিনি দুই রাত বিদেশের হোটেলে রাত্রিযাপন করেছেন। এক রাত ওয়াশিংটনে এবং এক রাত রিয়াদে।
এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ইকোনমিক টাইমসকে বলেন, ‘মাত্র ৯৭ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে একজন প্রধানমন্ত্রীর সফরের এই ঘটনা নজিরবিহীন। যদি প্রধানমন্ত্রী বিমানে ঘুমাতে না চাইতেন, তাহলে আমরা এত কম সময়ে সফর সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসতে পারতাম না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, শুধু একটি শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দীর্ঘ সময় সফর করেছেন। কিন্তু বিদেশ সফর এখন অনেক সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গিয়ে সময় বাঁচানোর ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বিদেশে হোটেলে ঘুমানোকে কর্মহীন রাত বলে মনে করেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দুই বছর মোদি ৯৫ দিন বিদেশ সফর করেছেন। এই সময় তিনি ২০ বার বিদেশ সফরে গেছেন, আর ৪০টি দেশ সফর করেছেন। কিন্তু মনমোহন সিং তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রথম দুই বছরে ৭২ দিন বিদেশ সফর করেছেন। এই সময়ে তিনি ১৫ বার বিদেশ সফরে যান এবং মাত্র ১৮টি দেশ সফর করেন।
এক কর্মকর্তা জানান, মোদি বলেছেন, তিনি সর্বোচ্চ কাজ করতে চান এবং তাঁর অশেষ কর্মশক্তি। তিনি গত ২৯ মার্চ মধ্যরাতের ফ্লাইটে করে দিল্লি থেকে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের উদ্দেশে যাত্রা করেন। আকাশে থাকা অবস্থায় নয় ঘণ্টা তিনি বিমানেই ঘুমিয়েছেন। তাঁকে নিয়ে বিমানটি ৩০ মার্চের সকালে ব্রাসেলসে বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ব্রাসেলসে একরাত থাকার এবং পরদিন সকালে এখানে বসবাসরত ভারতীয়দের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। পরদিন ৩১ মার্চ কার্যদিবস ছিল। কিন্তু প্রবাসী ভারতীয়রা তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য এদিন ছুটি নিয়েছিলেন। মোদি এটি আশা করেননি। তাই তিনি ৩০ মার্চেই বিভিন্ন বৈঠকের পর রাত ৯টার দিকে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। এরপর তিনি বিমানবন্দরে আসেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির দিকে যাত্রা করেন।
৩১ মার্চ ভোরে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছে একটি ব্যস্ততম দিন কাটান মোদি। পরের দিন ১ এপ্রিল পরমাণু নিরাপত্তাবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনের জন্য মোদিকে এক রাত ওয়াশিংটনের হোটেলে রাত্রিযাপন করতে হয়। পরদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই সম্মেলনে ছিলেন। এরপর সোজা বিমানবন্দরে পৌঁছে সন্ধ্যা ৭টায় রিয়াদের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এই যাত্রায় তিনি বিমানে ১২ ঘণ্টা ঘুমান। তিনি ২ এপ্রিল রিয়াদের হোটেলে একরাত কাটান। পরদিন ৩ এপ্রিল বৈঠক শেষে তিনি সন্ধ্যা ৭টায় দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ওই দিন দিবাগত রাত ২টায় তিনি দিল্লি পৌঁছান। পরদিন ৪ এপ্রিল সকালে নির্ধারিত বৈঠকে যোগ দেন।

অনলাইন ডেস্ক