রাজনীতিতে তারকাদের আগমন মানে স্ট্যান্ট
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন চলার সময় ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিল রেজ্জাক মোল্লা। নিজের দলের তারকা নেতা ও নেত্রীদের সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন ‘চাষির ব্যাটা’ নামে খ্যাত এই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেছেন, তারকাদের রাজনীতিতে আসার মানে হচ্ছে একটা স্ট্যান্ট বা চমক। পার্টির মধ্যে গোলমাল রয়েছে,তা সামাল দিতেই একজন তারকা নিতে হবে।
আজ বুধবার সাংবাদিকদের রেজ্জাক মোল্লা এসব কথা বলেন। দীর্ঘদিনের বামপন্থী এই রাজনীতিবিদ কিছুদিন আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। আর যোগ দেওয়ার পরই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকা থেকে তিনি প্রার্থীও হয়েছেন। নিজেকে রাজনীতিবিদের চেয়ে চাষির ব্যাটা বলে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।
রাজনীতিতে সেলিব্রেটিদের যোগ দেওয়াকে নিজের মতো ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রেজ্জাক মোল্লা বলেন, ‘এই যে মুনমুন সেন। কি কাজে লাগবে তাঁকে? মুনমুন সেনকে চাষির কী কাজে লাগবে? মজুরের কী কাজে লাগবে? বিড়ি শ্রমিকেরই বা কী কাজে লাগবে? দেবের মতো লোকজনকেও তো রাজনীতিতে নিয়ে আসা হচ্ছে।’ পরোক্ষভাবে দেবকে অভদ্র বলতেও ছাড়লেন না তিনি।
এখানেই থেমে থাকেননি রেজ্জাক মোল্লা। তিনি বিজেপি নেত্রী তথা দ্রৌপদি খ্যাত রুপা গাঙ্গুলীরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘রূপা গাঙ্গুলী কত লম্বা সিগারেট খান,কার সঙ্গে থাকেন,সব জানি। সবাই বলে উনি দ্রৌপদি সেজেছিলেন। কিন্তু আমি বলি, উনি সত্যি সত্যি দ্রৌপদি।’
বরাবরই দলের সমস্যাকে ধামাচাপা না দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে অভ্যস্ত এই ‘চাষির ব্যাটা’। এর আগে সিপিএমে থাকার সময় যখন সিঙ্গুর আন্দোলন সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বামফ্রন্ট সরকার, তখন সিপিএমের শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেনকে কটাক্ষ করে রেজ্জাক বলেছিলেন,‘হেলে সাপ ধরতে পারে না, কেউটে ধরতে গেছে।’
তৃণমূলের সেলিব্রেটি নেতা-নেত্রীদের নিয়ে রেজ্জাকের মন্তব্যে এরইমধ্যে বিভিন্ন স্তরে সমালোচনার ঝড় উঠতে শুরু করে দিয়েছে। এখন শুধু দেখার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে এই ‘চাষির ব্যাটা’র মুখে লাগাম টানেন।

কলকাতা সংবাদদাতা