মন্ত্রীদের ফেসবুক-টুইটার শেখাচ্ছেন মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চাইছেন তাঁর মন্ত্রিসভার প্রতিটি মন্ত্রীকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁর মন্ত্রিসভার প্রতিটি সদস্য যাতে তথ্য লেনদেনের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে জনসংযোগ ও জনভিত্তি গড়ে তুলতে পারেন এমনটাই চাইছেন স্বয়ং মোদি।
ভারতের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, মোদির ইচ্ছে তাঁর মন্ত্রিসভার প্রতিটি সদস্যই নিজেদের অনলাইন ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তুলুন। প্রসঙ্গত, নরেন্দ্র মোদির মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দক্ষ এমন প্রধানমন্ত্রী ভারতে এর আগে দেখা যায়নি। সেখানে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদি চাইছেন,তাঁর মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরাও তাঁর পথই অনুসরণ করুন।
গত মঙ্গলবার মোদির মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন মন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে না পারার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, বিজেপি নেতা ও মন্ত্রীদের ফেসবুক ও ট্যুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার শেখানোর জন্য তিনি কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল,পেট্রলিয়ামমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
তবে সমস্যা বেঁধেছে অন্য জায়গায়। মোদির মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ৪৭ শতাংশেরই গড় বয়স প্রায় ৫৫ বছর। ফলে প্রবীণ এই মন্ত্রীরা স্বভাবিকভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যাবহারের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন। তবে মোদি চাইছেন,তাঁর মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা সক্রিয় হোন এই সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে।
আর এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিয়েই মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি নীতি ও প্রকল্পের প্রচার যাতে মন্ত্রীরা করেন সেটাই চাইছেন মোদি। আসলে জনগণের কাছে সরকারের সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই মন্ত্রীদের সক্রিয় হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিশাল জয় পাওয়ার ক্ষেত্রে মোদির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুচতুর ব্যবহার। ক্ষমতায় আসার পরও মানুষের অভাব-অভিযোগ, তথ্য লেনদেনের ক্ষেত্রে মোদি বারবার ব্যবহার করেছেন এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেই।
তাই এখন মোদি চাইছেন তাঁর মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরাও এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুফলগুলোর ব্যবহার করুন। বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির টুইটারে ফলোয়ারের সংখ্যা এক কোটি ৯৭ লাখ। আর ফেসবুক পেজে তাঁর লাইক রয়েছে তিন কোটিরও বেশি।

কলকাতা সংবাদদাতা