কলকাতায় বাংলাদেশের বিজয় উৎসব শুরু
বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী বিজয় উৎসব শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। আজ বৃহস্পতিবার কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-দুতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব চলবে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত এবং বাংলাদেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে। ভারতের ইন্দিরা গান্ধী এবং বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একসঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনের যে ইতিহাস তা চিরকাল স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবে।’
মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘দেশ মাতৃকার জন্য লড়াই করে যারা জীবন দান করেছেন তাঁদের কখনো মৃত্যু হয় না। তাঁরা দেশের জন্য শহীদ।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ জীবন ও সুস্থ জীবন কামনা করে বলেন, ‘এই বাংলায় রবীন্দ্র বা নজরুলের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিল্পীরা না এলে আমাদের ভালো লাগে না। রবীন্দ্রনাথ কিংবা নজরুলকে কোনো দেশের সীমানায় বেঁধে রাখা যায় না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন বাংলাদেশের জন্য আমার সোনার বাংলা জাতীয় সংগীত রচনা করেছেন, তেমনি তিনি ভারতের জাতীয় সংগীত রচনা করেছেন। তাই দুই বাংলার মাটি সংস্কৃতির এক চিরাচরিত মেলবন্ধন ঘটিয়েছে।’ দুই বাংলার কারণেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সর্বদা অটুট থাকবে বলে দাবি করেন মমতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আজ হৃদয়ের সমস্ত মাধুরী দিয়ে আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি। বাংলাদেশ এবং আমাদের পশ্চিমবাংলার প্রচেষ্টায় ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ড বাউন্ডারির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’ দুই দেশ তথা দুই বাংলার মধ্যে আদান-প্রদান যাতে আগামী দিনে আরো বাড়ে তার ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলেন মমতা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনা সদস্যদের রক্তের সঙ্গে অগণিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রক্ত মিশে গেছে।’ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ভারতবিরোধী শক্তি বাংলাদেশে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তাদের পরাজিত করেছি। ভারত বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক সেই আগের জায়গায় এসেছে এবং সম্পর্ক আরো নিবিড় হচ্ছে। কলকাতার যে মাটি থেকে আমরা মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেছিলাম আজ সেখানে এসে বিজয় দিবস পালন করতে পেরে ভালো লাগছে। এজন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’ তিনি আরো বলেন, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের জন্য স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি যা সমস্যা আছে তা আলোচনার মধ্যে দিয়ে মীমাংসা হয়ে যাবে বলে আমরা আশা রাখি।’
অনুষ্ঠানে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূত জকি আহাদ বলেন, ‘এই উৎসব নতুন মাত্রা পেল এবং প্রাণবন্ত হলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমনে।’ তাঁর সহযোগিতায় কলকাতায় এই উৎসব করা সম্ভব হলো বলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের চিত্র তারকা ফেরদৌস, কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে গত বছরের মতো থাকবে বাংলাদেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি উৎসব প্রাঙ্গণে থাকবে ঢাকাই জামদানি, রাজশাহী সিল্ক, তাঁতসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্যের মেলা। থাকবে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার দাবারও। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র, চলচিত্র প্রদর্শনী, নাটক, বক্তৃতামালাও থাকবে এই অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানে সংগীত শিল্পী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, সাবিনা ইয়াসমিন, কুমার বিশ্বজিৎ, সাদি মোহাম্মদ, ইয়াকুব আলী খান, এস আই টুটুল, দিনাত জাহান মুন্নী, সাজিদ আকবর, সালমা আকবর, দিল আফরোজ রেবা সহ প্রমুখ। এ ছাড়া থাকবে ব্যান্ড সংগীতের দল ফিডব্যাক, লালন সংগীতের দল ভাবনগর, সুফী সংগীতের দল আবিদ শিল্পগোষ্ঠী।

কলকাতা সংবাদদাতা