রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলায় ইউক্রেনে নিহত ১৭
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, মিত্রদেশগুলো ইউক্রেনকে পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র না দেওয়ায় মানুষের জীবন হারাতে হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাশিয়ার রাতভর চালানো বিশাল হামলায় বহু ক্রুজ, ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ১৬৮টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানায়, ড্রোনের প্রায় ৯০ শতাংশ ও বেশিরভাগ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে মারাত্মক ক্ষতিকর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা গেছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই হামলাকে সাড়ে চার বছরের যুদ্ধের অন্যতম ‘পরিকল্পিত ও বড় আকারের’ হামলা বলে আখ্যা দিয়েছেন। কিয়েভের সোলোমিয়ানস্কি জেলায় নয় তলা আবাসিক ভবনের ওপরের অংশ ধ্বংস হয়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো এই ঘটনার পর দিন শোক দিবস ঘোষণা করেছেন।
হামলায় কিয়েভ ও এর আশপাশের অন্তত ৩০টি আবাসিক ভবন, একটি স্কুল, একটি শিশু হাসপাতাল ও একটি কিন্ডারগার্টেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ড্রোন তৈরির কেন্দ্র, সামরিক ডিপো ও লজিস্টিক হাব লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
ব্যালিস্টিক হামলা রুখতে সক্ষম একমাত্র প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ঘাটতি দেখা দেওয়ায় জেলেনস্কি বারবার মিত্রদের কাছে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি টেলিগ্রামে লিখেছেন, প্রতিটি অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র আমাদের মানুষের জীবন রক্ষা করে। দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্ব থেকে এর প্রতিক্রিয়া সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না পাওয়া পর্যন্ত মস্কো শান্তির জন্য কোনো আলোচনা করবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরগি কোরেৎস্কি জানান, প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় বেশ কিছু খাদ্য গুদাম এবং রেড ক্রসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ওডেসা অঞ্চলে একটি সীমান্ত ক্রসিং লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের একটি ড্রোন প্রতিবেশী রুমানিয়ায় এবং অপর একটি ড্রোন মলদোভায় গিয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার তাতারস্তানের তানেকো তেল শোধনাগার এবং ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি তেল টার্মিনালে আঘাত হানার দাবি করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক