ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মার্কিন প্রতিশ্রুতি আদায়ে ব্যর্থ স্টারমার

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আগের তুলনায় নরম সুরে কথা বললেও দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত আস্থা ও ইউক্রেন ইস্যুতে দোদুল্যমান দৃষ্টিভঙ্গি ইউরোপের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন ঐতিহাসিক মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এই দুই নেতা। বৈঠকটি ইতিবাচক পরিবেশে হলেও ইউরোপের জন্য প্রয়োজনীয় মার্কিন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা অর্জন করতে ব্যর্থ হন স্টারমার। খবর এএফপির।
ওভাল অফিসের এই বৈঠকে অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্টারমারকে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্য সফর করতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে একটি রাজকীয় আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন স্টারমার। ট্রাম্পও ব্রিটিশ রাজার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।
বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘ইউক্রেন সংকট সমাধানের পথে অনেক অগ্রগতি হয়েছে এবং আলোচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এটি হয় খুব শিগগিরই সমাধান হবে, নাহলে একেবারেই হবে না।’
অনেকে আশঙ্কা করছিলেন ট্রাম্প হয়তো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি সমঝোতা করে ইউক্রেনকে আলোচনার বাইরে রাখবেন। তবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তার (জেলেনস্কির) প্রতি অনেক শ্রদ্ধা রাখি।’
এর আগে ওভাল অফিসে এক বৈঠকের সময় জেলেনস্কিকে নিয়ে তার দেওয়া একটি বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেন ট্রাম্প। রসিকতার সুরে বলেন, ‘আমি কি তাকে স্বৈরশাসক বলেছিলাম? বিশ্বাসই হচ্ছে না, আমি এটা বলেছি।’

এদিকে কিয়ার স্টারমার বৈঠকের আগেই বলেছিলেন, ‘যদি কোনো রক্ষাকবচ ছাড়া যুদ্ধবিরতি হয়, তবে তিনি (পুতিন) সুযোগের অপেক্ষায় থাকবেন এবং আবার ফিরে আসবেন।’
তবে স্টারমারের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আশা করি, তিনি (পুতিন) প্রতিশ্রুতি রাখবেন। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। দীর্ঘদিন ধরেই আমি তাকে চিনি। আমি বিশ্বাস করি না যে, তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন।’
মার্কিন মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স চাইছে, ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী মোতায়েন করা হোক। আর এ বিষয়ে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিক ওয়াশিংটন। বৈঠকে স্টারমার বিষয়টি ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরেছেন।
স্টারমার জানান, শান্তি অর্জন করাই যুক্তরাজ্যের লক্ষ্য। তবে এমন শান্তি নয়, যা আক্রমণকারীকে পুরস্কৃত করে। তিনি বলেন, ‘আসন্ন চুক্তিকে টিকিয়ে রাখতে মাটিতে সেনা মোতায়েন ও আকাশে উড়োজাহাজ পাঠাতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য।’ কিন্তু ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি ছাড়াই ফিরতে হয়েছে স্টারমারকে। এর আগে গত সোমবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ওয়াশিংটনে এসে একইভাবে ব্যর্থ হন।
এদিকে, আজ শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করতে ওয়াশিংটনে গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। প্রথমে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ধরে রাখতে চুক্তিতে সম্মত হয় কিয়েভ।