ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ২৪৮, নিখোঁজ শতাধিক
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৮ জনে। এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি ও বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে এখনও চলছে উদ্ধার অভিযান। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানায়, পশ্চিম সুমাত্রার আগাম জেলায় আরও মরদেহ উদ্ধারের পর সর্বশেষ নিশ্চিত নিহতের সংখ্যা ২৪৮। এখনও ১০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে এবং ৫০০ জনের বেশি আহত। খবর আল জাজিরার।
বিএনপিবি প্রধান সুহারিয়ান্তো বলেন, অনেক মানুষ এখনও নিখোঁজ ও বহু এলাকা এখন উদ্ধারযোগ্য অবস্থায় নেই। এ কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রথমে সুমাত্রা জুড়ে ২৩ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেলেও পরে পশ্চিম সুমাত্রা অঞ্চলের সংস্থাগুলো জানায়, সেখানে ৬১ জন নিহত ও ৯০ জন নিখোঁজ। পরে উত্তর সুমাত্রায় ১১৬ জন এবং আচেহ প্রদেশে কমপক্ষে ৩৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী পশ্চিম সুমাত্রার বিভিন্ন অঞ্চলে ৭৫ হাজার ২১৯ জন বাস্তুচ্যুত এবং এক লাখ ছয় হাজার ৮০৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিরল এই ট্রপিক্যাল সাইক্লোন তৈরি হয় মালাক্কা প্রণালীতে; যা ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডজুড়ে টানা বর্ষণ ঘটায়। এতে তিন দেশে প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে নিহত হয়েছেন ১৪৫ জন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ লাখ মানুষ। আর মালয়েশিয়ায় ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় নদীর পানি ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়, ভেসে যায় পাহাড়ি জনপদ, ধ্বংস হয় হাজারো ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সড়ক ধসে পড়া, সেতু ভেঙে যাওয়া ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ অবস্থাতেও বিমানযোগে ত্রাণ ও খাদ্য সরবরাহ চলছে। বহু এলাকার পরিবার এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। উত্তর সুমাত্রার সেন্ট্রাল তাপানুলিসহ বহু অঞ্চল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক