নিউইয়র্কে ইসরায়েল, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক
নিউইয়র্কে ইসরায়েল, কাতার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বৈঠকের কথা নিশ্চিত করলেও এর বেশি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি। খবর এএফপির।
দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির পর থেকে এই বৈঠকটি ছিল দেশগুলোর মধ্যে ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক’, যেখানে কাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে।
আরও পড়ুন- গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে হামাস-ইসরায়েল মতানৈক্য
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ এই বৈঠকটি আয়োজন করেছিলেন।
ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব করেন মোসাদের গোয়েন্দা প্রধান ডেভিড বার্নিয়া। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কাতারি কর্মকর্তা এতে উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, রোববারের বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল ‘গাজা শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন’।
কাতার, মিশর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি ব্যাপক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। তবে ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলায় এই চুক্তি এখনও নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুন- কম্বোডিয়ায় থাইল্যান্ডের বিমান হামলা
শনিবার (৬ ডিসেম্বর), কাতার ও মিশর উভয়ই গাজায় সংঘাতের অবসান ঘটাতে চায়। এই ভঙ্গুর চুক্তিটি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করার জন্য ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছে।
দোহায় এক কূটনৈতিক সম্মেলনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার ও গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন করা যাবে না।
৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরায়েলি হামলায় হামাসের শীর্ষ আলোচক খলিল আল-হায়রাসহ ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর অন্যান্যদের লক্ষ্য করে হামলাটি ব্যর্থ হয়েছিল। এই হামলায় ছয়জন নিহত হয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই হামলার জন্য ক্ষমা চাইতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরে হোয়াইট হাউসের অনুরোধে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফোন করেছিলেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক