চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভেনেজুয়েলা, ডলারের দাম বেড়েছে ৪৭৯ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে বছর পার করল ভেনেজুয়েলা। গত ১২ মাসে দেশটিতে মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়েছে প্রায় ৪৭৯ শতাংশ। অতি-মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় দেশটির অর্থনীতি ক্রমেই ডলারনির্ভর হয়ে পড়ায় সরকারি হারের তুলনায় কালোবাজারে ডলারের দাম এখন প্রায় দ্বিগুণ। খবর বর্তা সংস্থা এএফপির।
ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) মার্কিন ডলারের সরকারি বিনিময় হার ৩০১ দশমিক ৩৭ বলিভারে নির্ধারণ করা হয়েছে। যা ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ছিল মাত্র ৫২ দশমিক ০২ বলিভার। অর্থাৎ এক বছরে স্থানীয় মুদ্রা বলিভারের বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে ৪৭৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম চালিত কালোবাজারে এক ডলারের দাম এখন প্রায় ৫৬০ বলিভার। যা সরকারি হারের তুলনায় ৮৫ শতাংশেরও বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ মুদ্রা বিনিময় এখন এসব অনানুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মেই সম্পন্ন হচ্ছে।
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ২০২৫ সালে ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, ২০২৫ সালে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির হার ৫০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে ভেনেজুয়েলা সরকার মুদ্রাস্ফীতির কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করেনি।
২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ভেনেজুয়েলা বর্তমানে তাদের উৎপাদিত তেলের বড় অংশই কালোবাজারে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছেন। তিনি ভেনেজুয়েলাগামী এবং ভেনেজুয়েলা থেকে ছেড়ে আসা ‘নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী জাহাজ’ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে তেলসমৃদ্ধ দেশটি বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার চরম সংকটে ভুগছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক