পাকিস্তানে কর্মদিবস সপ্তাহে চারদিন, কমছে এমপিদের বেতন
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক তেল সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নজিরবিহীন ব্যয়সংকোচন নীতিমালা ঘোষণা করেছেন। সিন্ধু প্রদেশ ছাড়া বাকি তিনটি প্রদেশ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজস্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকারের জরুরি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে, তাই মজুত থাকা তেলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত প্রধান পদক্ষেপগুলো:
কর্মদিবস হ্রাস : সব সরকারি অফিসের জন্য সপ্তাহে চার দিন (সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার) কর্মদিবস নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ব্যাংক, কৃষি, শিল্প এবং জরুরি সেবা (হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্স) এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : দেশের সব স্কুল ও কলেজ আগামী দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকবে। উচ্চশিক্ষা কমিশনের অধীনে থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
বাসা থেকে কাজ : সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে ৫০ শতাংশ কর্মীর জন্য বাসা থেকে কাজ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে জরুরি সেবা ও শিল্প খাতের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।
জ্বালানি ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ : আগামী দুই মাস সব সরকারি ও দাপ্তরিক যানবাহনের জ্বালানির বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এছাড়া ৬০ শতাংশ সরকারি যানবাহন এই সময়ে ব্যবহার করা যাবে না। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও গণপরিবহন এই বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে।
বেতন ও খরচ কেটে নেওয়া : আগামী দুই মাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, উপদেষ্টা বা বিশেষ সহকারীরা কোনো বেতন পাবেন না। সব সংসদ সদস্যের বেতন ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। এছাড়া ২০তম গ্রেড বা তার উপরের কর্মকর্তাদের (যাদের বেতন ৩ লাখ টাকার বেশি) বেতন থেকে দুই দিনের সমপরিমাণ অর্থ কেটে রাখা হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের খরচ ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভ্রমণ ও অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা : সকল কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জরুরি জাতীয় স্বার্থ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা গভর্নররাও বিদেশ সফর করবেন না।
অনলাইন মিটিং ও আতিথেয়তা : অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ এড়াতে সব সরকারি সভা অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি ইফতার-ডিনার বা সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেকোনো সেমিনার বা কনফারেন্স হোটেলের পরিবর্তে সরকারি ভেন্যুতে করতে হবে।
‘কঠিন’ সিদ্ধান্ত
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পাকিস্তান যেহেতু উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাই দেশের অর্থনীতি রক্ষায় এসব ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিতে হয়েছে।
শাহবাজ শরিফ ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক এবং ওমানসহ বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলারও নিন্দা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর গঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি জ্বালানি তেলের মজুত পর্যালোচনা করেছে। কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক