ইসরায়েলপন্থি নির্বাহী আদেশ বাতিল করলেন মামদানি, ফিলিস্তিনপন্থিদের প্রশংসা
নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার পূর্বসূরি এরিক অ্যাডামসের জারি করা একাধিক ইসরায়েলপন্থি নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছেন। এসব আদেশ বাতিলে ফিলিস্তিন অধিকারকর্মীরা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে ইসরায়েল সরকার। খবর আল জাজিরার।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন মামদানি ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের পর অ্যাডামসের জারি করা সব নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন। ওই দিনই দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হন সাবেক মেয়র অ্যাডামস। বাতিল হওয়া আদেশগুলোর একটি ছিল—ইসরায়েল, ইসরায়েলি নাগরিক বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ‘বৈষম্যমূলক’ কোনো চুক্তি না করার নির্দেশনা।
আরেকটি আদেশে ইন্টারন্যাশনাল হলোকাস্ট রিমেমবারেন্স এলাইন্স (আইএইচআরএ) প্রদত্ত বিতর্কিত ‘ইহুদি বিদ্বেষ’ সংজ্ঞা গ্রহণ করা হয়েছিল, যা সমালোচকদের মতে, ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য দমনে ব্যবহৃত হতে পারে।
আরও পড়ুন : কোরআনে হাত রেখে শপথ নিলেন নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি
প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট–নিউইয়র্কের সদস্য নাসরিন ইসা বলেন, মামদানির এই সিদ্ধান্ত নিউইয়র্কবাসীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা রক্ষার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
নিউইয়র্কে কাউন্সিল অন আমেরিকান–ইসলামিক রিলেশনসের (কেইয়ার) প্রধান আফাফ নাশেরও মামদানির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই অসাংবিধানিক আদেশ নিউইয়র্কবাসীর ইসরায়েল সরকারের বর্ণবাদ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করার অধিকার হরণ করছিল।
ইসরায়েলের তীব্র প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে মামদানির সিদ্ধান্তকে আখ্যা দেয়, ‘তার আসল চেহারা প্রকাশ’ হিসেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তারা বলেন, এটি নেতৃত্ব নয়, এটি ঘৃণার আগুনে পেট্রোল ঢালার শামিল।
ইসরায়েলের প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রী আমিখাই চিকলি মামদানির বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে তাকে ‘হামাস সমর্থক’ বলে আক্রমণ করেন এবং লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের সঙ্গে তুলনা করেন। যদিও মামদানি বা খান—কারোর সঙ্গেই মুসলিম ব্রাদারহুডের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
ট্রাম্প প্রশাসনের সতর্কবার্তা
ইসরায়েলের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনও মামদানির পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার শাখার সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিট ধিলন বলেন, নিউইয়র্কে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় তার দপ্তর ব্যবস্থা নেবে।
মামদানির উত্থান
৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র। তিনি কোরআনের ওপর হাত রেখে শপথ নেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি ইহুদি বিদ্বেষ মোকাবিলায় মেয়রের কার্যালয় চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন, তার প্রশাসন নিউইয়র্কের ইহুদি নাগরিকদের ‘সম্মান ও উদযাপন’ করবে।
ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মামদানি গত জুনে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন পান এবং নভেম্বরের নির্বাচনে তাকেই পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। তার প্রচারণার বড় একটি দিক ছিল আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি, তবে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে তার সোচ্চার অবস্থানও তাকে জনপ্রিয় করে তোলে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক