মাদুরোর চোখ বাঁধা ছবি প্রকাশ করলেন ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাতে হাতকড়া ও চোখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে বসে থাকা ছবি প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ছবিটি পোস্ট করেন তিনি। খবর এনডিটিভির।
ছবিতে ধূসর সোয়েটশার্ট ও ট্র্যাকপ্যান্ট পরা ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোকে বড় হেডফোন কানে দিয়ে পানির বোতল হাতে বসে থাকতে দেখা যায়।
এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ক্ষমতার নিরাপদ রূপান্তর না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা চালাবে। তিনি আরও জানান, মাদুরোকে আটক করার সামরিক অভিযানের পর মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে দেশটিতে প্রবেশ করে বিশাল তেল মজুত কাজে লাগানোর অনুমতি দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন : সাদ্দাম-নরিয়েগার পরিণতি হবে মাদুরোর?
২০১৯ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিষেধাজ্ঞা চলছে। দেশটি বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। ট্রাম্পের দাবি, কারাকাস তেল থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে ‘মাদক সন্ত্রাস, মানব পাচার, হত্যা ও অপহরণ’ অর্থায়ন করছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন জানান, কারাকাসে রাতের অভিযানে মাদুরোকে আটক করতে ‘মাসের পর মাস পরিকল্পনা ও মহড়া’ চালানো হয় এবং এতে পশ্চিম গোলার্ধজুড়ে একযোগে ১৫০টির বেশি মার্কিন বিমান অংশ নেয়।
ড্যান কেইন বলেন, এটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও নিখুঁত একটি অপারেশন। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রাণহানি হয়নি বলে জানান তিনি, যদিও কিছু সেনা আহত হয়েছেন বলে পরে ট্রাম্প স্বীকার করেন।
মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস—উভয়ের বিরুদ্ধেই মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে বিচার মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মারিয়া কোরিনা মাচাদো সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, স্বাধীনতার সময় এসে গেছে। তিনি বিরোধী জোটের প্রার্থী এডমুন্ডো গনসালেস উরুতিয়াকে দ্রুত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে ভেনেজুয়েলা সরকার একে ‘অত্যন্ত গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়ে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। রাশিয়া ও ইরানসহ মাদুরোর মিত্র দেশগুলো এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছে; উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এই অভিযান তার আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতির আরেকটি বড় উদাহরণ, যেখানে তিনি যুদ্ধ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিলেও সামরিক শক্তি ব্যবহারে দ্বিধা করছেন না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক