ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ট্রাম্পকে রিপাবলিকানদের সমর্থন
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েছে রিপাবলিকান পার্টির বেশিরভাগ নেতা। তবে তার নিজস্ব রাজনৈতিক শিবির ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (এমএজিএ) আন্দোলনের কিছু অংশ এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। খবর আল জাজিরার।
২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রথম প্রার্থিতার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত যুদ্ধমুখী পররাষ্ট্রনীতির বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের প্রায়ই ‘যুদ্ধবাজ’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন। অথচ সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক এবং দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ‘চালাবে’—এমন ঘোষণায় তিনি যে শাসন পরিবর্তনমূলক যুদ্ধগুলোর বিরোধিতা করে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়েছিলেন, সেই পুরোনো কৌশলেই ফিরে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
রিপাবলিকানদের সমর্থন
রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ভেনেজুয়েলাকে মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দল গর্ব করতে পারে। আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই আমাদের পেছনের উঠোনে গড়ে ওঠা মাদক সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যার মূল কেন্দ্র ভেনেজুয়েলা।
আরও পড়ুন : সাদ্দাম-নরিয়েগার পরিণতি হবে মাদুরোর?
গ্রাহাম ট্রাম্পকে মার্কিন ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট আখ্যা দিয়ে তার প্রশংসা করেন।
সীমিত সমালোচনা
রিপাবলিকান সাবেক কংগ্রেসম্যান ম্যাট গেটজ মাদুরোর ‘আটক’ হওয়া নিয়ে ব্যঙ্গ করেন।
অন্যদিকে লিবার্টেরিয়ান ঘরানার সিনেটর র্যান্ড পল সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের অনুমোদন না নেওয়ায় সীমিত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই শাসন পরিবর্তনের মূল্য কতটা মানবিক ও আর্থিক ক্ষতি ডেকে আনবে তা সময়ই বলে দেবে।
আরও পড়ুন : ভেনেজুয়েলায় কেন মার্কিন হামলা, মাদুরোর সঙ্গে কী ঘটতে যাচ্ছে?
সিনেটর মাইক লি অভিযানের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে বলেছেন—মাদুরোর বিরুদ্ধে আইনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভিন্নমত
রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেইলর গ্রিন ট্রাম্পের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,
আমাদের সরকারের অবিরাম সামরিক আগ্রাসনে আমেরিকান জনগণ বিরক্ত। আমরা এর অর্থ জোগাচ্ছি, অথচ জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও বাসস্থানের সংকটে ভুগছি।
টেইলর গ্রিন আরও উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিলের প্রধান উৎস নয় এবং সম্প্রতি ট্রাম্প হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজকে ক্ষমা করেছেন।
কংগ্রেসম্যান টমাস ম্যাসি সতর্ক করে বলেন, ভেনেজুয়েলায় হামলা মূলত ‘তেল ও শাসন পরিবর্তন’ কেন্দ্রিক। তার ভাষায়, ২৫ মিলিয়ন ভেনেজুয়েলান যদি শরণার্থী হয়ে ওঠে, তার দায় কে নেবে? আমরা কি পশ্চিম গোলার্ধে আরেকটি আফগানিস্তান চাই?
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
স্বল্পমেয়াদে মাদুরোকে আটক করাকে ট্রাম্প প্রশাসনের সাফল্য হিসেবে দেখানো হলেও, দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি কোথায় গড়াবে তা স্পষ্ট নয়। ভেনেজুয়েলায় কে ক্ষমতায় থাকবে, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে দেশটি ‘চালাবে’—সে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সরাসরি মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। এতে করে ভিয়েতনাম, ইরাক কিংবা আফগানিস্তানের মতো আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
টমাস ম্যাসি বলেন, আমরা কি সত্যিই বিশ্বাস করি, নিকোলাস মাদুরোর জায়গায় আধুনিক জর্জ ওয়াশিংটন আসবে? লিবিয়া, ইরাক কিংবা সিরিয়ায় এর পরিণতি কী হয়েছিল, তা আমাদের সবার জানা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক