চিলিতে ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১৯, জরুরি অবস্থা ঘোষণা
চিলির দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত দাবানলে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও উদ্ধার অভিযান ত্বরান্বিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় রোববার (১৯ জানুয়ারি) সর্বশেষ মৃতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়।
চিলির রাজধানীর সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত নুবল ও বায়োবিও অঞ্চলে গত দুই দিন ধরে জ্বলছে এই আগুন। তীব্র বাতাস ও প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এরই মধ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
পেনকো শহরের ২৫ বছর বয়সী ছাত্র মাতিয়াস সিড বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং শহরের ঘরবাড়ি পুড়তে শুরু করে। আমরা শুধু পরনের কাপড়টুকু নিয়ে কোনোমতে জান নিয়ে পালিয়েছি। আর ২০ মিনিট দেরি করলে আমরা সবাই জ্যান্ত পুড়ে মরতাম।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া জনশূন্য শহরগুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে সারি সারি পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি এবং কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপ ভ্যান ও গাড়ি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
মেয়র রদ্রিগো ভেরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দাবানলে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে পেনকোতে। পার্শ্ববর্তী বন্দর শহর লিরকুয়েনেও পরিস্থিতি সমান ভয়াবহ। প্রায় ২০ হাজার মানুষের এই শহরে আগুন ছড়িয়ে পড়তে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
৫৭ বছর বয়সী বাসিন্দা আলেজান্দ্রো অ্যারেডোন্ডো বলেন, ‘অনেকেই জীবন বাঁচাতে সমুদ্র সৈকতের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন। আগুনে এখন আর কিছুই দাঁড়িয়ে নেই।’
বর্তমানে লিরকুয়েন শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ও উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় কারফিউ জারি থাকলেও অনেক বাসিন্দাকে টর্চলাইট হাতে ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে ও জ্বলতে থাকা আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক