ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ প্রত্যাখ্যান করল নরওয়ে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বহুল আলোচিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নরওয়ে। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) নরওয়ে সরকার এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা সুইজারল্যান্ডের দাভোসে এই সংস্থার স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না। মূলত নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়াকে কেন্দ্র করে নরওয়ের ওপর ট্রাম্পের ক্রমাগত ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যেই এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হলো। খবর বার্তা এএফপির।
নরওয়ের স্টেট সেক্রেটারি ক্রিস্টোফার থোনার এক বিবৃতিতে বলেন, এই প্রস্তাবটি নিয়ে আমাদের মনে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও আলোচনার প্রয়োজন। তাই নরওয়ে এই মুহূর্তে ‘বোর্ড অব পিসের’ অংশ হচ্ছে না। দাভোসের অনুষ্ঠানেও যোগ দেবে না। তবে নরওয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘ দিন ধরেই নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য বলে দাবি করে আসছেন। কিন্তু গত বছর এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে প্রদান করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গাহর স্টোরকে একটি কড়া বার্তা পাঠান। সেখানে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ‘আপনার দেশ আমাকে নোবেল দেয়নি, তাই আমি আর এখন শুধু ‘শান্তি’ নিয়ে ভাবতে বাধ্য নই।’
এই বার্তার পর থেকেই ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করছেন। এমনকি নরওয়েসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোর অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, নোবেল কমিটি একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন সংস্থা। পুরস্কার প্রদানে নরওয়ে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।
বোর্ড অব পিস কী : প্রাথমিকভাবে গাজা পুনর্গঠনের জন্য এই বোর্ড গঠনের কথা বলা হলেও এর সনদে সংস্থাটির অসীম ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত এই নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্বোধনী চেয়ারম্যান হবেন তিনি নিজেই। যা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মূলত গাজা যুদ্ধের অবসান এবং পরবর্তী পুনর্গঠন তদারকির জন্য এটি তৈরি করা হলেও, এর পরিধি এবং ক্ষমতা জাতিসংঘের বিকল্প বা সমান্তরাল একটি বিশ্ব সংস্থার মতো। এমনকি সনদে তাকে এই পদ থেকে অপসারণের প্রায় কোনো সুযোগ রাখা হয়নি (কেবল স্বেচ্ছায় পদত্যাগ বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়া)।
নরওয়ের মতে, এই সংস্থাটি জাতিসংঘ বা বিদ্যমান আন্তর্জাতিক কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে তা এখনো অস্পষ্ট। এছাড়া স্থায়ী সদস্যপদ পেতে দেশগুলোকে ১ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প। সেটিও অনেক দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নরওয়ের এই প্রত্যাখ্যানকে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের স্বপ্নে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নর্ডিক দেশগুলোর মধ্যে নরওয়ের এই অবস্থান অন্যান্য ইউরোপীয় মিত্রদেরও প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক