অভিবাসন অভিযান ‘কিছুটা শিথিল’ করা হবে : ট্রাম্প
মিনেসোটায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর সেখানে অভিযানের তীব্রতা ‘কিছুটা কমানো হবে’ বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সব মিলিয়ে বলতে গেলে, ঘটনাটি ভয়াবহ ছিল। দুটো ঘটনাই ভয়াবহ। খবর বিবিসির।
চলতি বছরের শুরুতে রেনি গুড নামের এক নারী অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত হন। আর গত সপ্তাহান্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহত হন। এই দুই ঘটনার পর মিনেসোটায় ব্যাপক বিক্ষোভ ও দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।
প্রেট্টির মৃত্যুর ঘটনায় দুই দলের আইনপ্রণেতারাই সমালোচনায় মুখর হন। এর প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে মিনেসোটায় ফেডারেল অভিযানে কিছুটা পিছু হটার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) মিনেসোটায় অভিযানের প্রধান মুখ গ্রেগরি বোভিনোকে রাজ্যটি থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। তার জায়গায় হোয়াইট হাউসের তথাকথিত ‘বর্ডার জার’ টম হোমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
হোমান এই সপ্তাহে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মঙ্গলবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ, মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
আইওয়ায় এক সমাবেশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভেটেরান্স হাসপাতালের আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেট্টির মৃত্যু ‘একটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা’।
তবে তাকে ‘সন্ত্রাসী’ বলা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, আমি এমনটা শুনিনি। এরপর তিনি যোগ করেন, তার কাছে বন্দুক থাকা উচিত হয়নি।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সচিব ক্রিস্টি নোয়েম বলেছেন, প্রেট্টি নাকি বন্দুক উঁচিয়ে ধরেছিলেন, এজন্যই তাকে গুলি করা হয়। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দুকটি বৈধভাবে নিবন্ধিত ছিল এবং অস্ত্রটি সরিয়ে নেওয়ার পরই তাকে গুলি করা হয়।
ডিএইচএস বলেছে, এজেন্টরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান, কারণ প্রেট্টি তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টায় বাধা দিচ্ছিলেন। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তারা এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, প্রেট্টির হাতে অস্ত্র নয়, একটি মোবাইল ফোন ছিল।
নোয়েম প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে আসেননি, তিনি সহিংসতা উসকে দিতে এসেছিলেন এবং প্রেট্টিকে ‘সন্ত্রাসবাদে’ জড়িত বলে অভিযুক্ত করেন।
প্রেট্টির মৃত্যু স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। রাজ্য ও শহরের কর্মকর্তারা আবারও মিনেসোটা থেকে প্রায় ৩ হাজার অভিবাসন এজেন্ট প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এই ঘটনার তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একজন ফেডারেল বিচারক ডিএইচএসকে প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তন করতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মিনেসোটার অভিযানকে আংশিকভাবে সমর্থন করে বলেন, আমরা রাজ্যটি থেকে হাজার হাজার ভয়ঙ্কর অপরাধীকে সরিয়ে দিয়েছি। তাই এখন সেখানে অপরাধের হার ভালো।
ট্রাম্প বলেন, টম হোমান এখন দায়িত্বে আছেন এবং প্রশাসন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার দিকে যাবে।
হোয়াইট হাউসের শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেন, মিনেসোটায় পাঠানো অতিরিক্ত জনবল মূলত গ্রেপ্তারকারী দলের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির জন্য ছিল। তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সেই নির্দেশনা ঠিকভাবে মানছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রেট্টির মৃত্যুর ঘটনায় রিপাবলিকান দলের মধ্য থেকেও তদন্তের দাবি উঠেছে। নেব্রাস্কার সিনেটর পিট রিকেটস বলেছেন, এই ঘটনায় একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক