মিনিয়াপোলিস ছাড়ছেন ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া শীর্ষ এক কর্মকর্তা শহরটি ছাড়তে যাচ্ছেন। ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো ও কয়েকজন অভিবাসন কর্মকর্তা শহর ছাড়লেও, তথাকথিত ‘বর্ডার জার’ টম হোমান এখন মিনেসোটা শহরটিতে মাঠপর্যায়ের অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন। স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) অ্যালেক্স প্রেট্টি নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে চলমান কড়া অভিবাসন অভিযানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে অনলাইন ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। খবর বিবিসির।
অ্যালেক্স প্রেট্টি ঘটনার সময় ফেডারেল এজেন্টদের কার্যক্রম ভিডিও করছিলেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে তাকে একাধিকবার গুলি করা হয়। বোভিনো পরে দাবি করেন, প্রেট্টি ফেডারেল এজেন্টদের ‘গণহত্যা’ করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) বলেছে, প্রেট্টির কাছে একটি হ্যান্ডগান ছিল এবং তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন—এ কারণে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় কর্মকর্তারা এবং নিহতের পরিবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলেছেন, প্রেট্টির হাতে অস্ত্র নয়, একটি মোবাইল ফোন ছিল। তার বাবা-মা প্রশাসনের বক্তব্যকে ‘ঘৃণ্য মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেছেন।
গ্রেগরি বোভিনো ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অভিবাসন নীতির অন্যতম মুখ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে তিনি প্রায়ই অভিযানের ভিডিও পোস্ট করতেন এবং তা প্রচার করতেন।
কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন তা অস্বীকার করে বলেন, বোভিনো এখনও ‘প্রেসিডেন্টের দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ’।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মিনিয়াপোলিস ও আশপাশের এলাকায় ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ অব্যাহত ছিল। সেন্ট পলের বাসিন্দা জর্জ কর্ডেরো বলেন, অনেকে এখন কাজ করতে পারছে না, ঘর থেকেও বের হতে পারছে না। সবাই ভয়ে আছে।
প্রেট্টি ছিলেন মিনিয়াপোলিসের দ্বিতীয় বাসিন্দা, যিনি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত হলেন। এর আগে ৭ জানুয়ারি রেনি নিকোল গুড নামের এক নারী গুলিতে নিহত হন।
সোমবার ট্রাম্প মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের সঙ্গে কথা বলেন। দুজনই ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের বিরোধিতা করে আসছিলেন এবং ফেডারেল এজেন্ট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন।
আলোচনাকে উভয় পক্ষই ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি এবং ওয়ালজ ‘একই তরঙ্গে’ আছেন এবং তার লক্ষ্য হলো ‘অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া’।
ওয়ালজ বলেন, প্রেসিডেন্ট মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টের সংখ্যা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে এবং প্রেট্টির মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে ডিএইচএসের সঙ্গে কথা বলতে সম্মত হয়েছেন।
সোমবার রাতে প্রেট্টির স্মরণে শহরে স্মরণসভা ও বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। প্রায় একশ মানুষ সেই হোটেলের সামনে জড়ো হয়, যেখানে বোভিনো অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল এবং তার শহর ছাড়ার দাবি জানায়।
প্রেট্টির ছোট বোন মিকাইলা প্রেট্টি এক বিবৃতিতে তার ভাইকে ‘নায়ক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এটা কবে শেষ হবে? আর কত নিরপরাধ প্রাণ গেলে আমরা বলব—এবার যথেষ্ট?’
আরও বিক্ষোভ ও স্মরণানুষ্ঠান আগামী কয়েক দিন ধরে চলবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক