এপস্টেইন সংযোগ বিতর্কে লেবার পার্টি ছাড়লেন লর্ড ম্যান্ডেলসন
প্রয়াত দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে অতীত সংযোগ নিয়ে নতুন বিতর্কের জেরে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন।
স্থানীয় সময় রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক চিঠিতে তিনি লেবার পার্টির মহাসচিবকে জানান, এপস্টেইনকে ঘিরে চলমান বিতর্কে তিনি আর পার্টির জন্য ‘বিব্রতকর পরিস্থিতি’ তৈরি করতে চান না। খবর বিবিসির।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে দাবি করা হয়েছে, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে তিন দফায় ২৫ হাজার ডলার করে মোট ৭৫ হাজার ডলার লর্ড ম্যান্ডেলসনকে প্রদান করেছিলেন জেফ্রি এপস্টেইন। তবে ম্যান্ডেলসন বলেছেন, এই অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তার কোনো স্মৃতি বা নথি নেই এবং তিনি অভিযোগগুলো তদন্ত করবেন।
তার চিঠিতে তিনি লেখেন, এই সপ্তাহান্তে আমাকে আবারও জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে সৃষ্ট আলোড়নের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আমি এ নিয়ে দুঃখিত ও অনুতপ্ত।
ম্যান্ডেলসন আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। তবে বিষয়টি আমি নিজেই খতিয়ে দেখব। এই সময়ে লেবার পার্টিকে বিব্রত না করতে আমি সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।
একই সঙ্গে এপস্টেইনের অপরাধের শিকার নারী ও কিশোরীদের কাছে তিনি আবারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, আমি এপস্টেইনকে চেনা এবং তার দণ্ডিত হওয়ার পরও সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইছি।
লেবার এমপি গর্ডন ম্যাকি বলেন, এপস্টেইনের ভুক্তভোগীরা সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশে ‘ন্যায্যভাবেই ক্ষুব্ধ’ হতে পারেন এবং ম্যান্ডেলসন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টির এক মুখপাত্র দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করে বলেন, ম্যান্ডেলসনকে বহিষ্কার না করে পদত্যাগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক পূর্বে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, ম্যান্ডেলসনের সদস্যপদ স্থগিত করে তার এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তদন্ত শুরু করতে।
হাউজিং সেক্রেটারি স্টিভ রিড বলেন, সরকার ম্যান্ডেলসনের কথিত আর্থিক সংযোগের বিষয়ে আগে অবগত ছিল না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক