যুদ্ধবিরতির মাঝেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, ১ দিনে নিহত ২৩
গাজা উপত্যকায় মার্কিন মধ্যস্থতায় ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলোর একটি পার করল ফিলিস্তিনিরা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক হামলায় কমপক্ষে ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত চার মাসের এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইসরায়েল এখন পর্যন্ত ৫২০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। খবর আল জাজিরার।
চিকিৎসা সূত্রগুলো আল জাজিরাকে জানিয়েছে, বুধবার নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু ছিল, যার মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুও রয়েছে। শহরের তুফাহ ও জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি গোলন্দাজ বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হন।
এছাড়া দক্ষিণ গাজার কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে হামলায় চারজন প্রাণ হারান। উপকূলীয় এই তাঁবু শিবিরে বিমান হামলায় দুইজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে হুসেন হাসান হুসেন নামে একজন স্বাস্থ্যকর্মী (প্যারামেডিক) রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
আল জাজিরার প্রতিনিধি তারেক আবু আযজুম জানান, কোনো প্রকার পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই আবাসিক বাড়িগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের মুহুর্মুহু শব্দে গাজার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তর গাজায় তাদের নিয়মিত অভিযান চলাকালীন এক রিজার্ভ অফিসার গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর তারা সাঁজোয়া ইউনিট ও বিমান নিয়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইসরায়েল বর্তমানে ‘হলুদ রেখা’ বা তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সীমানা পরিবর্তন করছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ৫৪ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ও ৬৬টি বক্সে ভর্তি মানব দেহাংশ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রেড ক্রসের মাধ্যমে হস্তান্তর করেছে। মেডিকেল টিমগুলো এখন এই দেহাবশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
ইসরায়েলি কড়াকড়ির কারণে গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর এ সপ্তাহে রাফাহ ক্রসিং আংশিক খুললেও ফিলিস্তিনি রোগীদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা কাটছে না। বুধবার সমন্বয়হীনতার দোহাই দিয়ে রোগীদের তৃতীয় দলটির গাজা ছাড়ার প্রক্রিয়া বাতিল করে ইসরায়েল। যদিও পরবর্তীতে আল জাজিরা জানায় যে, দীর্ঘসূত্রিতার পর স্থানান্তর প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১ হাজার ৮০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই অভিযোগে হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা বর্তমানে চলমান।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক