এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করল কাতার, গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শুরু হওয়া প্রতিশোধমূলক আক্রমণের জেরে কাতার এনার্জি তাদের এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে, বিশেষ করে ইউরোপে গ্যাসের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। একই সময়ে ড্রোন হামলার শিকার হয়ে সৌদি আরবও তাদের অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
সোমবার (২ মার্চ) এক বিবৃতিতে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী সংস্থা কাতার এনার্জি জানিয়েছে, কাতারের রাস লাফান ও মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে সামরিক হামলার কারণে তারা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ড্রোন দেশটিতে আঘাত হেনেছে। একটি ড্রোন মেসাইদের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ও অন্যটি রাস লাফানের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানে। এই ঘোষণার পরপরই ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে আগুন
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম (এসপিএ) জানায়, সোমবার (২ মার্চ) সকালে রাস তানুরা তেল শোধনাগারে দুটি ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়। ড্রোন দুটিকে মাঝপথে ঠেকিয়ে দেওয়ার পর সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়। এই শোধনাগারটি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাতের প্রধান স্তম্ভ, যেখান থেকে প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করা যায়। হামলায় কোনো হতাহত বা বড় ক্ষতি না হলেও নিরাপত্তার খাতিরে শোধনাগারটির বেশ কিছু ইউনিটের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন হরমুজ প্রণালির দুই পাশে প্রচুর তেলবাহী জাহাজ আটকে আছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ এবং কাতারের বেশির ভাগ গ্যাস এই পথ দিয়েই বিদেশে পাঠানো হয়। সমুদ্রপথে এই বাধার কারণে ও যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ভয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা পুরো পৃথিবীর অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দার ঝুঁকি তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান এই আক্রমণ শুরু করেছে। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যৌথভাবে ইরানের এই হামলার নিন্দা জানিয়ে নিজেদের রক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ রব গেইস্ট পিনফোল্ড মনে করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে ইরান মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে, যাতে দ্রুত যুদ্ধ থামানো যায়। তবে ওপরের দিকে আরব দেশগুলোকে একজোট মনে হলেও, ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক