শান্তি আলোচনা নিয়ে অচলাবস্থায় বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম
মার্কিন শান্তি প্রস্তাবে ইরানের দেওয়া পাল্টা প্রতিক্রিয়া সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই কঠোর অবস্থানের কারণে ১০ সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। আজ সোমবার (১১ মে) বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম আরও বেড়ে গেছে। খবর রয়টার্সের।
শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন একটি প্রস্তাব দিলেও ইরান রোববার তার জবাবে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেয়। তেহরান তাদের শর্তে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে নাকচ করে দেন।
এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। আজ বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় চার ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো, যা এখন প্রায় স্থবির হয়ে আছে।
এদিকে, ঘরোয়া রাজনীতিতেও চাপে রয়েছেন ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এই যুদ্ধ মার্কিন ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প। সেখানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ইস্যু এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত কাজ শেষ হবে না। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে উত্তেজনা এখন চরমে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক