ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ৪৭ দেশের যোদ্ধা নামিয়েছেন পুতিন : জেলেনস্কি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ৪৭টি দেশের নাগরিকদের যোদ্ধা হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পাঠানো উত্তর কোরিয়ার দুই সেনাকে আটক করে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হয়েছে। খবর এএফপির।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, পুতিন সবসময় এমন কাউকে খুঁজছেন, যিনি তাকে আরও বেশি মানুষ হত্যায় সহায়তা করতে পারবেন, প্রতি কিলোমিটার ভূখণ্ডের বিনিময়ে আরও বেশি প্রাণহানি ঘটাতে পারবেন এবং আরও বেশি এলাকা দখল করতে পারবেন, আর অন্য একটি দেশকে করায়ত্ত করতে পারবেন; অথচ তিনি এখনই থেমে গিয়ে শুধু নিজের দেশটাকেই পরিচালনা করতে পারতেন।
জেলেনস্কি আরও বলেন, আমরা জানি, রাশিয়া তাদের পক্ষে যুদ্ধ করতে ৪৭ দেশের নাগরিককে ব্যবহার করছে। এ সময় তিনি ঘানা, নেপাল ও ভারতের মতো দেশগুলোর নাগরিকদের কথা উল্লেখ করেন, যারা এ সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্প্রতি আমরা উত্তর কোরিয়ার দুজন যুদ্ধবন্দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়েছি। এদের জীবিত ধরা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না।
জাতিসংঘে ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কিয়েভের অর্জিত অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন জেলেনস্কি; বর্তমানে ড্রোন প্রযুক্তিতে ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি বলেন, ‘ড্রোন সংক্রান্ত চুক্তির মাধ্যমে আমরা ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ ককেশাস এবং সমগ্র ইউরোপের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি। আজ আমি ফিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রোন চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। পাশাপাশি আজ আমি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছি, যার মধ্যেও ড্রোন সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
জেলেনস্কি জানান, কানাডার সঙ্গেও ড্রোন সংক্রান্ত একটি চুক্তি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আসন্ন শীতে তার বাহিনী রাশিয়ার তাপ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, যাতে তীব্র শীতের প্রকোপকে রাশিয়ার বিরুদ্ধেই কাজে লাগানো যায়। সংঘাত শুরুর পর থেকেই মস্কো ইউক্রেনের বেসামরিক তাপ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে এবং ওই অঞ্চলের হাড়কাঁপানো শীতকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনীয়রা জানে, এই শীতকাল আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হতে পারে; তবে এর জবাবে রাশিয়ার জন্যও পরিস্থিতি কষ্টদায়ক করে তোলা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।’
মস্কোর প্রতি জেলেনস্কির এই কঠোর বার্তা এমন সময় এলো, যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন যাতে একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করে, সেজন্য ওয়াশিংটন চাপ দিচ্ছে।
জেলেনস্কি আরও জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়ার পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত ধ্বংস করা ইউক্রেনের লক্ষ্য নয়; বরং তাদের যুদ্ধ-যন্ত্র সচল রাখার প্রধান আয়ের উৎস থেকে মস্কোকে বঞ্চিত করাই উদ্দেশ্য।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ‘বাণিজ্যের মাধ্যমে কেউ যখন রাশিয়াকে আরও অর্থ দেয়, তখন তারা এই যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করে। ঠিক এ কারণেই আমরা আগ্রাসী দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার ওপর জোর দিচ্ছি এবং রাশিয়ার আয়ের উৎসগুলো আমরা ধ্বংস করছি।’
‘পুতিন যত দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন, তিনি পৃথিবীতে তত বেশি অশুভ চিহ্ন রেখে যাবেন’, যোগ করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক