শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ‘অযৌক্তিক’ : ইরান
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনা বর্তমানে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত ‘অযৌক্তিক’ ও ‘একতরফা’ দাবি জানাচ্ছে। বর্তমানে উভয় পক্ষ একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও স্থায়ী শান্তির পথ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। খবর আল জাজিরার।
গত রোববার (১০ মে) পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান একটি শান্তি প্রস্তাব জমা দেয়, যেখানে তারা যুদ্ধের অবসান, লেবাননের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইরানি বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার ও বিদেশে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্তির দাবি জানায়। ইরান এই প্রস্তাবকে ‘উদার ও দায়িত্বশীল’ বলে অভিহিত করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের শর্তগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় এক ভয়াবহ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের জীবনে।
শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। সোমবার এশিয়ায় লেনদেনের সময় আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৬৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৯.৯৫ ডলারে পৌঁছেছে এবং মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫.৫০ ডলারে।
তেলের এই আকাশচুম্বী দামের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ৫০টি দেশের একটি জোট ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। এই লক্ষে মঙ্গলবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুজাতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা ঘিরে ইরান কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে।
ইরান এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে এবং জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। ইরান ইউরোপীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আগ্রাসনের’ সহযোগী না হতে ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক