ইরানে হামলা বিশ্বকে ভয়াবহ ‘পারমাণবিক যুদ্ধের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযান বিশ্বকে এক ভয়াবহ ‘পারমাণবিক যুদ্ধের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে রাশিয়া ও চীন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব পরমাণু বিস্তার রোধের দোহাই দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করেছে, তার ফলাফল হবে ঠিক উল্টো। খবর আলজাজিরার।
ল্যাভরভ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত সেই সব দেশে হামলা চালায় না যাদের কাছে পারমাণবিক বোমা আছে। ফলে এই হামলার যৌক্তিক পরিণতি হিসেবে ইরানের ভেতরেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পক্ষে জনমত প্রবল হবে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আরব দেশগুলোও এই প্রতিযোগিতায় শামিল হতে পারে। যা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাবে।
মস্কোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযানকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর ‘পূর্বপরিকল্পিত ও বিনা উস্কানিতে সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। রাশিয়ার মতে, তেহরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়াল করতেই আলোচনার নামে এই যুদ্ধের ছক কষা হয়েছে। তারা সতর্ক করে বলছে, এই মানবসৃষ্ট সংকটের ফলে সৃষ্ট মানবিক, অর্থনৈতিক ও সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের পূর্ণ দায়ভার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই বহন করতে হবে।
উল্লেখ্য, রাশিয়া নিজেই ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসনের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা নীতির তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে।
অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক ফোনালাপে ইরানের ওপর সামরিক হামলার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। ওয়াং ই বলেন, সামরিক শক্তি কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না, বরং এটি নতুন নতুন সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদী ভয়াবহ পরিণাম ডেকে আনে।
চীন অবিলম্বে এই সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে যাতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়। এছাড়া ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক