যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে কীভাবে লাভবান হচ্ছে চীন?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের প্রভাবকে যখন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে, তখন পর্দার আড়াল থেকে লাভবান হচ্ছে চীন। সিআইএর সাবেক বিশ্লেষক জন নিক্সন আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই সংঘাতে বেইজিং ‘লং গেম’ বা দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।
আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভুল হামলায়’ হরমুজ প্রণালিতে নিহত ৫
নিক্সনের মতে, ইরান যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক যুদ্ধকৌশল ও সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছে চীন। ওয়াশিংটন যখন সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত, বেইজিং তখন দূর থেকে মার্কিন রণকৌশল বিশ্লেষণ করে নিজেদের সামরিক শক্তিকে আরও নিখুঁত করার রসদ পাচ্ছে।
সাবেক এই বিশ্লেষক মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি ‘দায়িত্বশীল’ শক্তি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছে। উপসাগরীয় দেশগুলো চীনের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে বারবার সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে, চীন সেখানে কোনো যুদ্ধ ছাড়াই দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।
আরও পড়ুন : অভিনয় থেকে রাজনীতি- মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে কি বসবেন থালাপতি বিজয়?
আরও পড়ুন : হোয়াইট হাউসের কাছে গুলিতে বন্দুকধারী আহত, পাশেই ছিলেন জেডি ভ্যান্স
চীনের এই অঞ্চলের প্রতি আগ্রহের অন্যতম মূল কারণ হলো জ্বালানি। জন নিক্সন উল্লেখ করেন, বিশ্ব ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এলেও চীন দীর্ঘ সময় ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেলের বড় গ্রাহক হিসেবে থেকে যাবে। যদিও চীনের এই সম্পর্ককে অনেকে ‘লেনদেনভিত্তিক’ বলে সমালোচনা করেন। তবুও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘একগুঁয়ে’ আচরণের কারণে চীনের প্রস্তাবগুলো দিন দিন আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন : কালবৈশাখী হতে পারে যেসব জেলায়, সাবধানে চলাচলের পরামর্শ
নিক্সনের মতে, ওয়াশিংটন যদি অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে তাদের কৌশলে পরিবর্তন না আনে, তবে বেইজিংয়ের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত পরাজয় ডেকে আনতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক